নিজ দলের প্রদেশ সভাপতিকে নয়, মমতা বন্দোপাধ্যায়কে কাছে টানছেন সোনিয়া গান্ধী
কেননা মমতাই সেই প্রথম নেত্রী যিনি কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে নিজের আলাদা দল করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন। শুধু তাই নয়, বিজেপি ও মোদি বাহিনীকে পদে পদে রুখে দিয়েছেন।
কার্যত গোটা দেশ যে রাহুল গান্ধীর চেয়ে ক্রমশই মমতা ম্যানিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে, তা বুঝেই কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেত্রী চাইছেন মমতাকে কাছে টানতে। প্রয়োজনে বাংলায় উনিশের ভোটে জেতা দুটি আসন ব্যতীত আর কোথাও আসন না দেওয়ার কথাও মহাজোটের বৈঠকে ঘোষণা করে দিতে পারেন পারেন সোনিয়া। কংগ্রেস সূত্রে তেমনটাই জানা গিয়েছে। আর যদি সেটাই হয় তাহলে অস্বীকার করার উপায় নেই তা হবে অধীর চৌধুরীর কাছে বড় ধাক্কা।
বেঙ্গালুরুতে বসছে বিজেপি বিরোধী মহাজোটের দ্বিতীয় দফার বৈঠক। সেই বৈঠকে কংগ্রেসের তরফে সোনিয়া, রাহুল ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে উপস্থিত থাকবেন। তেমনি সেই বৈঠকে যোগ দিতে সেখানে দেখা যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। এদিন দুপুরের বিমানে বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন মমতা ও অভিষেক। সন্ধ্যায় বেঙ্গালুরুর তাজ ওয়েস্ট ইন হোটেলে বিরোধী দলের নেতারা ঘরোয়া কথাবার্তায় মিলিত হবেন। তারপর থাকছে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর দেওয়া ডিনার। সেখানে তৃণমূল নেত্রী হাজিরা থাকবেন না বলেই জানা গিয়েছে। কিন্তু সূত্রে এটাও জানা গিয়েছে, সোনিয়া মনেপ্রাণে চাইছেন মমতা সেই ডিনারে হাজির থাকুন। দেখার বিষয় সোনিয়ার সেই অনুরোধ মমতা রাখেন কিনা।
কার্যত দু'বছর পর মুখোমুখি হবেন সোনিয়া ও মমতা। স্বভাবতই সেদিকে বাড়তি নজর থাকছে। আর এখানেই অস্বস্তি বাড়ছে বাংলার প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের অন্দরে। শোনা যাচ্ছে, অধীর জোট ফর্মুলার বিরোধিতা করলে বা কট্টর মমতা বিরোধিতায় অনড় থাকলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে পরিবর্তন ঘটাতে পিছু পা হবে না কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। সেক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দই প্রদীপ ভট্টাচার্য।
বিজেপি বিরোধী মহাজোটের আগের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল জোট গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে। কেন
বিজেপিকে হারাতে সমস্ত বিরোধী দলকে জোট বাঁধতে হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। এবারের বৈঠকে নীতি নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কী ফর্মুলায় জোট হবে, কীভাবে আসন ভাগ হবে, এই আলোচনা হতে পারে। কীভাবে জোট এগোবে, কী হবে জোটের নামকরণ - এসব দ্বিতীয় বৈঠকে ঠিক হবে। যদিও আগেই ঘোষণা হয়েছে যে, রাজ্যে রাজ্যে পরিস্থিতি দেখে আসন ভাগের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। রাজ্যভিত্তিক আলোচনা করে আসন ভাগের বিষয়টি নির্ধারণ হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন যে, ওয়ান টু ওয়ান লড়াই চাই। আর যে যেখানে শক্তিশালী, সেখানে তাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কার্যত মমতার ফর্মুলাই আগের বৈঠকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রথম বিজেপির বিরুদ্ধে এত বড় এক বৈঠকে রণকৌশল স্থির হতে চলেছে। যার ফলে বিজেপিও খানিকটা চিন্তায়।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি