ভারতের মণিপুরে এফআইআর করা সত্ত্বেও হামলার আশঙ্কায় তদন্তে যাচ্ছে না পুলিশ

মণিপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে বলে বিরোধীদের পাশাপাশি শাসক দল বিজেপির নেতা-মন্ত্রী-পার্লামেন্ট সদস্যরাও সরব হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহের অপসারণ দাবি করেছে বিরোধীরা। প্রশাসনিক মহলের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মতে, পাহাড়ি রাজ্যটির প্রকৃত অবস্থা কেমন তা শুধু তিন মাসে রুজু হওয়া হাজার ছয়েক এফআইআর থেকেই স্পষ্ট।

সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, চূড়াইচাঁদপুরে ১৭০০ জিরো এফআইআর দায়ের হয়েছে। ধরে নেওয়া যায় মেইতেই বহুল এলাকায় হামলার শিকার হওয়া কুকি সম্প্রদায়ের মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে এসে এই এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার পর স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। লাগোয়া কাংপোকপি থানায় দায়ের হয়েছে প্রায় ৮০০ জিরো এফআইআর। অন্যদিকে, ১২৫০টি জিরো এফআইআর দায়ের হয়েছে মেইতেই সম্প্রদায় বহুল বিষ্ণুপুর থানায়।

ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৫৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধে পুলিশ দণ্ডবিধির নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করতে বাধ্য ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্টের ভিত্তিতে। অর্থাৎ অভিযোগকারীর বয়ানের ভিত্তিতে পুলিশকে অভিযোগ নথিভুক্ত করতে হবে।

৩ মে মণিপুরে জাতি দাঙ্গা শুরুর পর পরিস্থিতি এমন হয় যে স্থানীয় থানায় যাওয়ার মতো অবস্থা ছিল না। হামলার মুখে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে দূরে কোথাও গিয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। সেখানকার স্থানীয় থানায় পরে অভিযোগ দায়ের করেন তারা। জিরো এফআইআরে নিয়ম হল, এফআইআরের কপি সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। ত্রাণ শিবিরে গিয়েও পুলিশ অভিযোগ নথিভুক্ত করে।

মণিপুরে দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ জিরো এফআইআরের কপি প্রায় একমাস পর সংশ্লিষ্ট থানায় পৌঁছেছে, যেখানে অপরাধ সংঘঠিত হয়েছিল। এতদিনে অপরাধের তথ্যপ্রমাণ অনেকটাই লোপাট হয়ে গিয়েছে। তাছাড়া পুলিশ এখন তদন্তে যেতে সাহস করছে না হামলার আশঙ্কায়। অভিযোগকারীদের খুঁজে বের করাও পুলিশের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই এখনও নিজের বাড়ি, এলাকায় ফেরেননি। ফলে পুলিশ তদন্ত শুরু করতে পারেনি। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

 

Walton Ads