যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়াতে ‘বাদ্যযন্ত্র উদ’ ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন হাসান হামজা
শিল্পী হাসান হামজার দেশে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলছে। দেশে তার একটি ছোট ওয়ার্কশপ আছে। সেখানে রয়েছে কাঠের ঘ্রাণ আর সঙ্গীতের সুরের মুর্চ্ছনা। হাসান হামজা আরবি সঙ্গীতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাদ্যযন্ত্র তৈরির কাজ নিয়োজিত রয়েছেন।
৬৭ বছর বয়সী হাসান হামজা উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার উদ তৈরির ঐতিহ্যবাহী কয়েকজন কারুশিল্পীর একজন। হামজা সিরিয়ার আল-বাব শহরে তার ওয়ার্কশপ থেকে আল জাজিরাকে বলেন, ‘উদ বাদ্যযন্ত্রটি আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মতো। আমি এটিকে যখন আমার বুকের সঙ্গে স্পর্শ করি তখন অনেক শান্তি পাই।’
উদ তৈরির দক্ষতা অনেকে পরিবারিক সূত্রে পেয়ে থাকলেও হামজা কিন্তু তার এই পেশাটি উত্তরাধিকার সূত্রে পাননি। তিনি ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় শখ করে উদ বাজাতে শুরু করেছিলেন, কিন্তু এই শখই পরবর্তিতে তার পেশায় পরিণত হয়।
হামজা ২০০৪ সালে উদ তৈরী করা শুরু করেছিলেন। কিন্তু সিরিয়ায় যুদ্ধ শুরু হলে ২০১২ সালে তিনি নিজ শহর ও ওয়ার্কশপ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। তুরস্কে আট বছর ধরে শরণার্থী ছিলেন। কিন্তু সে সময়ও তার উদ তৈরীর কাজ বন্ধ ছিল না। ২০১৯ সালে তিনি পুনরায় আল-বাবে ফিরে উদ তৈরির কাজে মনোনিবেশ করেন।
উদ তৈরীতে জুনিপার বা আবলুসের মতো টেকসই কাঠের প্রয়োজন হয়। আর সামনের অংশে একটি হালকা কাঠ ব্যবহার করা হয়। স্ট্রিংগুলি সিরিয়ার বাইরে থেকে নেয়া হয়।
আরব বিশ্বে সিরিয়া সঙ্গীত ঐতিহ্য ও উদ যন্ত্রের ব্যাপক সুনাম রয়েছে । উদ এর সুর সুমধুর। এছাড়া যন্ত্রটি দেখতেও চমৎকার। এর সুনিপুণ কারুকার্যের কারণে গত বছর নভেম্বর এটিকে মানবতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করেছে ইউনেসকো। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি