আসামে বজরং দলের অস্ত্র প্রশিক্ষণ শিবির, তীব্র প্রতিক্রিয়া

ভারতে বিজেপিশাসিত আসামে উগ্রহিন্দুত্ববাদী বজরং দলের অস্ত্র প্রশিক্ষণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

 এ প্রসঙ্গে বুধবার আসামের সাবেক বিধায়ক নাদওয়াতুত তামীর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র মাওলানা আতাউর রহমান মাজার ভুঁইয়া রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘এটা বজরং দলের সাম্প্রদায়িক ইস্যু। সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অযথা ইস্যু খাড়া করে হিংসা-বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য এটা করা হচ্ছে। অন্য কিছু নয়।’

আসাম পুলিশের ডিজিপি মঙ্গলদৈয়ের এসপিকে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছেন। এবং সেই অনুযায়ী এফআইআর হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। ঘটনার তদন্ত চলছে’ বলেও মন্তব্য করেন আসামের সাবেক বিধায়ক নাদওয়াতুত তামীর সংগঠনের  কেন্দ্রীয় কমিটির  সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র মাওলানা আতাউর রহমান মাজারভুঁইয়া।  

গত ২৭ জুলাই থেকে চার দিনের কর্মসূচিতে আসামের মঙ্গলদৈ মহর্ষি বিদ্যামন্দিরে অস্ত্র চালনা প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। এতে রাজ্যের ২৮টি জেলার ৩৫০ জন যুবককে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ওই শিবিরে বন্দুক-ধনুক, লাঠি চালনা থেকে শুরু করে শারীরিক প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। মূলত আচমকা আক্রমণের জবাবে নিজেকে বাঁচাতে কীভাবে পাল্টা আক্রমণ করতে হয় সেটাই শেখানো হয়।

 এছাড়াও কথিত ‘লাভ জেহাদ’-এর ঘটনা বন্ধ  করতে শিবিরে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।  
২০১৮ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় বজরং দল এভাবে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। তামুলপুর, হোজাই, ধুবড়ি, নলবাড়ি ও মঙ্গলদৈতে অস্ত্র প্রশিক্ষণের ছাউনি রয়েছে। এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২৪০০ ক্যাডার অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়েছে।      

এ প্রসঙ্গে সংখ্যালঘু ছাত্র সংগঠন ‘আমসু’র প্রশ্ন- মাদ্রাসায় যদি সরকার বুলডোজার চালাতে পারে, তাহলে অস্ত্রচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া স্কুলটিতে কবে বুলডোজার চালানো হবে?

বিধায়ক অখিল গগৈ বলেছেন, খুব শিগগিরি ধর্মের নামে সংঘাতের পরিবেশ সৃষ্টি হবে রাজ্যে। মণিপুর সদৃশপরিবেশ সৃষ্টি হবে। এরজন্য দায়ী হবে সরকারই।  তিনি আরও বলেন, যে স্কুলে অস্ত্রচালনার প্রশিক্ষণ হয়েছে, সেই স্কুলটি বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি মঙ্গলদৈয়ের প[উলিশ সুপারকে সাসপেন্ড করা উচিত। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

 

 

Walton Ads