কওমি মাদরাসার সিলেবাস নিয়ে নাক গলাবে না রাজ্য সরকার : মমতা ব্যানার্জি
বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জানিয়েছেন, আমরা জানি এই মাদরাসাগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হয়। কিছু ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের গাইডলাইন মেনে চলে। আমরা তাদের সিলেবাস বা শিক্ষার পদ্ধতি নিয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করব না। আমাদের এ নিয়ে স্টাডি করতে হবে। তারপর তাদের বলা হবে, তারা সরকারের অনুমোদন চান কি না। হয়তো কিছু মাদরাসা এটা চাইবেন। কিছু হয়তো চাইবেন না। অনুমোদিত কওমি মাদরাসার পড়ুয়ারা বিনা পয়সায় সাইকেল, ট্যাবলেট, স্কলারশিপ সব পাবে। রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের আওতায় তারা এসব পাবে। এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে এ দিন মুখ্যমন্ত্রী ওই অনুমোদনহীন কওমি মাদরাসাগুলোকে সরকারি খাতায় অনুমোদন দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন। তবে এটা একেবারেই চাপিয়ে দেয়া নয়। সবটাই নির্ভর করছে সেই মাদরাসার উপর। আর সেই অনুমোদন পাওয়ার পরে সেই মাদরাসাগুলোর পড়ুয়ারা সরকারি সাইকেল, ট্যাবলেট সব পাবে।
একইসাথে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মাদরাসায় যারা পড়াশোনা করেন তারা অনেক সময় সরকারি সুবিধা পান না। সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই জন্য় কমিটি তৈরির কথাও জানিয়েছেন তিনি। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরাও সেই কমিটিতে থাকবেন।
অগাস্টের প্রথমেই বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সংখ্যালঘুদের পড়াশোনায় আরো উন্নয়নের লক্ষ্যে মাদরাসাগুলোর জন্য বাজেট কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। তাছাড়া বাইরে পড়ার জন্য ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের জন্য স্কলারশিপের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে এক নম্বরে রয়েছে পশ্চিমবাংলা। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রকে আক্রমণ করে তিনি জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ছাত্র-ছাত্রীদের বঞ্চনা করছে। তবে রাজ্য সরকার ৪৫ লাখ ছাত্র-ছাত্রীকে স্কলারশিপ দিচ্ছে।
এ দিন বিধানসভায় এই প্রসঙ্গে জানাতে গিয়ে তিনি সংখ্যালঘুদের জন্য অন্য কোনো খাতে কত খরচ করা হয়েছে, সেই তালিকা তুলে ধরার পাশাপাশি জানান, সংখ্যালঘুদের জন্য অনেক কাজ চলছে। তিনি বলেন, অনেক সংখ্যালঘু ছেলে-মেয়ে আইএএস আইপিএস হচ্ছেন।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি