ভারতবিরোধী কাজ করছে জোট ‘ইন্ডিয়া’, আক্রমণ বিজেপির, মোদিকে কটাক্ষ বিরোধীদের
পূর্ব নির্ধারিত শিডিউল অনুসারে মণিপুর ইস্যুতে মঙ্গলবার থেকে ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি অনাস্থা প্রস্তাবের উপর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনের আলোচনা পারস্পিকি আক্রমণ এবং কটাক্ষের মধ্য দিয়েই চলে। এই আলোচনা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ধারণা করা হয়েছিল বিতর্কের শুরুতে সদ্য পার্লামেন্ট সদস্যপদ ফিরে পাওয়া কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বক্তব্য রাখবেন। সেই মতো রাহুলের ঢাল হিসেবে মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি এবং একসময়ের গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে বক্তার তালিকায় রেখেছে বিজেপি। কিন্তু সকলকে চমকে দিয়ে দলীয় এমপি গৌরব গগৈ বক্তব্য দিতে শুরু করেন। তা নিয়ে হইচই শুরু করেন বিজেপির সদস্যরা।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রথমদিনই আলোচনায় রাহুলকে ময়দানে নামালে হট্টগোল করে পুরো ব্যাপারটা ভেস্তে দিতে পারে বিজেপি। তাই সরকারপক্ষের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যের শেষে গুগলি ছাড়তে মাঠে নামতে পারেন কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি। সে কারণে মোদির ছক্কা মারার কটাক্ষের একটু রয়েসয়ে জবাব দিতে প্রস্তুত হচ্ছেন সোনিয়া-পুত্র।
অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের আগেই এদিন সকালে বিজেপি সংসদীয় দলের বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত পার্লামেন্ট সদস্য নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘বিরোধী জোট ২০২৪ সালে ফাইনালের আগেই একটা সেমিফাইনাল চাইছে। আমরা শেষ বলে ছক্কা মারব। অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’
দি ওয়ালের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় তিন মাস ধরে মণিপুরে আগুন জ্বলছে। তা নিয়ে পার্লামেন্টে একবারও মুখ খোলেননি প্রধানমন্ত্রী। তাকে সে ব্যাপারে বাধ্য করতে লোকসভায় তার সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে ২৬টি বিরোধী দলীয় জোট।
লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী পার্লামেন্ট চত্বরে দাঁড়িয়ে বলেন, অনাস্থা বিতর্ক শুধু সংখ্যার লড়াই নয়। দেশে একজন দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন। যাঁর কোনও লজ্জা নেই। দেশের একটা রাজ্য যখন জ্বলছে তখন তিনি রাজনৈতিক প্রচার করে বেড়াচ্ছেন। সেই রাজ্যে শান্তি ফেরানো নিয়ে সেখানকার মানুষকে ভরসা দেওয়া নিয়ে কোনও কথা বলছেন না। আমরা সেই প্রধানমন্ত্রীকে লোকসভায় টেনে এনে জবাব চাইছি।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি