‘পার্লামেন্ট বিলংস টু দ্য অপোজিশন’, লোকসভায় কংগ্রেস নেতা
ভারতের লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী এই ইংরেজি প্রবাদটি সামনে টেনে আনেন। পার্লামেন্ট বিরোধীদের। সরকার যে নীতি প্রণয়ন করবে বা সরকারের কাজকর্মের ধারা নিয়ে আইনসভায় প্রশ্ন তোলার অগ্রাধিকার হল বিরোধীদের। সংসদীয় প্রথা হল, বিরোধীরা যখন সেই প্রশ্ন তুলবেন তখন লোকসভার নেতা তথা প্রধানমন্ত্রী সভায় উপস্থিত থাকবেন।
মঙ্গলবার থেকে ভারতের লোকসভায় সরকারের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের উপর বিতর্ক শুরু হয়েছে। মণিপুর পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরব থাকা ও সরকারের ব্যর্থতার প্রশ্নে এই প্রস্তাব এনেছে কংগ্রেস। মঙ্গলবার ও বুধবার লোকসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এক টানা অনাস্থা বিতর্ক চলেছে। এসময় প্রধানমন্ত্রী কোথায় ছিলেন? টানা দুদিন ধরে অনাস্থা বিতর্কে লোকসভায় অনুপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্বাধীনতা উত্তর সময়ে পার্লামেন্টে অনাস্থা বিতর্কে এমন ঘটনা বেনজির বলেই দাবি বিরোধীদের।
অধীর চৌধুরী বলেন, অতীতে ২০০৩ সালে এনডিএ সরকারের আমলে যখন কংগ্রেস অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিল তখন বিতর্কের সময়ে প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী লোকসভায় বসে বিরোধীদের কথা শুনেছিলেন। পরবর্তী কালে ইউপিএ জমানায় বিজেপির আনা অনাস্থা প্রস্তাবের সময়ে লোকসভায় দীর্ঘ সময় বসে থেকে বিরোধীদের কথা শুনেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। কিন্তু নরেন্দ্র মোদির দম্ভ ও অহঙ্কার এতটাই যে বিরোধীদের কথা শোনার প্রয়োজনই বোধ করছেন না। উনি মণিপুরের মানুষের কান্না শুনতে পাচ্ছেন না। বিরোধীদের স্বরও না। এটাই স্বৈরাচারের বড় লক্ষণ।
এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ বিতর্কে অংশ নিয়ে রাহুলের রাজনৈতিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সেই সঙ্গে বলেছেন, কে বলেছে প্রধানমন্ত্রী মণিপুর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। ভোর চারটেয় প্রধানমন্ত্রী তাকে ঘুম থেকে তুলে ফোন করেছেন, আবার সকালে ৬টাতেও ফোন করেছেন।
বিজেপি অবশ্য বলেছে, প্রধানমন্ত্রী লোকসভায় উপস্থিত না থাকলেও পার্লামেন্ট টিভিতে বিরোধীদের সব কথাই শুনেছেন।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি