সরকারি কর্মচারীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে মিয়ানমার জান্তা সরকার

এ লক্ষ্যে দেশটির সরকার দক্ষিণাঞ্চলীয় শান প্রদেশে সরকারি কর্মচারীদের একটি তালিকাও তৈরি করছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিভাগে কর্মরত কর্মচারীরাও এই তালিকায় স্থান পাচ্ছেন। 

মূলত তথাকথিত পিপলস মিলিশিয়া বা জনগণের মিলিশিয়া নামক এ বহিনী গঠনের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। শান প্রদেশের নিরাপত্তা ও সীমান্ত বিষয়ক মন্ত্রী কর্নেল সিন উইনের আদেশে ১৭ আগস্টের মধ্যে তাউংগি ও কালাও জেলা এবং স্ব-শাসিত পা-ও ও দানু অঞ্চলে পুলিশ কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে এই তালিকা করার কথা বলা হয়। 

আদেশে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা দপ্তরের কর্মীসহ বেসামরিক কর্মচারীদের সামরিক বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের অধীনে সহায়ক বাহিনী হিসাবে ব্যবহার করা হবে এবং মিলিশিয়া ব্যাটালিয়নের আকার অনুযায়ী দায়িত্ব বরাদ্দ করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি জান্তা সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শান প্রদেশ এবং কায়াহ প্রদেশে সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকারি সেনা সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, তাই সরকারি কর্মচারীদের মিলিশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে জান্তা।

সামরিক বাহিনী ত্যাগকারী এক ব্যক্তি বলেছেন, বিরোধীদের হামলায় সেনাবাহিনী হতাহতের শিকার হয়েছে এবং নতুন সেনা নিয়োগ করার মতো খুব কম লোকই খুঁজে পাচ্ছে তারা।

২০২১ সালের ফেব্রয়ারি মাসের শুরুতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সুচির নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এরপর গণতন্ত্রের দাবিতে দেশজুড়ে লড়াইরত প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর সাথে প্রতিদিনের সংঘর্ষে নিয়মিতভাবেই ব্যাপক হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।

এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধ করার জন্য জান্তা সরকার চোর এবং অন্যান্য ছোটখাটো অপরাধীদেরও নিয়োগ করেছে। কিন্তু তাদের অনেকেই আবার প্রশিক্ষণের সময় পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি
 

Walton Ads