হরিয়ানায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার অন্যতম উস্কানিদাতা বজরং দলের বিট্টু গ্রেপ্তার
দাঙ্গা শুরু হওয়ার প্রায় একমাস পর অবশেষে মঙ্গলবার ফরিবাদ পুলিশ বিট্টু বজরঙ্গীকে গ্রেপ্তার করেছে। গোরক্ষক বিট্টু বজরঙ্গী রাজ্যের নূহ, গুরুগ্রাম এবং অন্যান্য স্থানে গত মাসের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রধান উস্কানিদাতাদের মধ্যে একজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, বজরঙ্গীর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও এবং লাইভ ভিডিও শেয়ার করার পরেই সহিংসতা শুরু হয় এবং সেটা বাড়তে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ভিডিওগুলোতে বজরঙ্গীকে দেখা যায়। নুহতে ‘শোভা যাত্রার কয়েকদিন আগে, তিনি বলছেন যে তিনি তার শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছেন এবং তাদের ‘তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত থাকতে হবে।’
বজরং দলের সক্রিয় সদস্য মোনু মানেসার ও বিট্টুর উস্কানিমূলক মন্তব্যের কারণেই নূহের সহিংসতা শুরু হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি মামলা আছে বলে খবর ভারতীয় গণমাধ্যমের।
ফরিদাবাদে বিট্টুর বাড়ির কাছে লাগানো সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, লাঠি ও অস্ত্রে সজ্জিত সাদা পোশাকের পুলিশ ধাওয়া করে অভিযুক্ত বিট্টুকে ধরে ফেলেন।
[দাঙ্গা, সহিংসতা, হুমকি দেওয়া, সরকারি কাজে বাধাদান, সরকারি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে জখম করার দায়ে বিট্টু অভিযুক্ত।
ফরিদাবাদ পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিভিন্ন ভিডিও থেকে বিট্টু বজরংয়ের সহযোগীদেরও শনাক্ত করা হচ্ছে, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।
ফরিদাবাদের গাজিপুর বাজার ও দাবুয়া বাজারের ফল ও সবজি ব্যবসায়ী বিট্টু বজরং ওরফে রাজ কুমার গত তিন বছর ধরে একটি গোরক্ষক গোষ্ঠী পরিচালনা করে আসছে। শুধু গত মাসেই ধর্মীয় আবেগ উস্কে দেওয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। নূহের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর ফরিদাবাদে গোরক্ষা বজরং বাহিনীর এই প্রধানের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়।
বিডিনিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ধর্মীয় শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার পর দাঙ্গা কীভাবে শুরু হল তা নিয়ে বলতে গিয়ে নূহের এমএলএ চৌধুরি আফতাব বলেন, ‘লোকজন আগে থেকেই মোনু মানেসার, বিট্টু বজরংয়ের বিবৃতি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ছিল, আর ওই সময় গুজব ছড়ায় মোনু এই শোভাযাত্রায় যোগ দিতে মানেসরে এসেছেন, এই নিয়ে সহিংসতা শুরু হয়ে যায়।’সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি