৩৭০ ধারা বাতিলে সংবিধানসভা বা বিধানসভার সম্মতি প্রয়োজন:

জম্মু ও কাশ্মীরের ৩৭০ এবং ৩৫(এ) ধারা বাতিল সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টকে এ যুক্তি পেশ করেছে আবেদনকারী।

০১৯ সালের ৫ আগস্ট নরেন্দ্র মোদি সরকার ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরের ‘বিশেষ মর্যাদা’ কেড়ে নেওয়ার পরে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতেও আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল ৩৭১ অনুচ্ছেদ নিয়ে।

সরকারের অবস্থান ব্যাখা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, ৩৭০ ছিলো অস্থায়ী অনুচ্ছেদ। কিন্তু ৩৭১ স্থায়ী অনুচ্ছেদ। তাই ৩৭১(এ) থেকে ৩৭১(জে) পর্যন্ত সবকটি ধারা বজায় থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বস্তুত, শীর্ষ আদালতে ৩৭০ ধারা বিলোপ সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রেও এই যুক্তি দিয়ে কেন্দ্র বলেছে, ১৯৫০ সালে সংবিধান প্রণয়নের সময় ৩৭০ অনুচ্ছেদে জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হলেও সেই মর্যাদা স্থায়ী ছিল না, বরং ছিল ‘অস্থায়ী সংস্থান’ (টেম্পোরারি প্রভিশন)। ওই অনুচ্ছেদের ৩ নম্বর উপধারায় বলা হয়,  প্রেসিডেন্ট ইচ্ছে করলে ওই ‘বিশেষ মর্যাদা’ তুলে নিতে পারেন।

রেসিডেন্টের ওই ক্ষমতাকে ব্যবহার করেই ২০১৯ সালে ‘বিশেষ মর্যাদা’ প্রত্যাহার করে মোদি সরকার।

অন্য দিকে, ৩৭০ ধারার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা মামলার আবেদনকারী পক্ষের যুক্তি, জওহরলাল নেহরুর সময়ে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত অংশ ১২ বলছে - কেবলমাত্র ‘কনস্টিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলি’ (পরে রাজ্য সরকার) সম্মত হলে তবেই সংবিধানের কোনও ধারার সংশোধন জম্মু ও কাশ্মীরে প্রযোজ্য। অর্থাৎ কোনও সংশোধন জম্মু ও কাশ্মীরে প্রযোজ্য হতে হলে ৩৭০(১) ধারা মতে রাজ্য সরকারের সম্মতিতে প্রেসিডেন্টের আদেশ জারি প্রয়োজন। নির্বাচন সংক্রান্ত অংশ ১৫ বলছে - রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন রাজ্যের নিজস্ব আইন দ্বারা পরিচালিত বা নিয়ন্ত্রিত হবে। ফলে ৩৭০ ধারা বাতিল করতে হলে সংবিধানসভা বা বিধানসভার সম্মতি প্রয়োজন। কিন্তু মোদি সরকারের আমলে ৩৭০ বাতিলের আগে জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা ভেঙে প্রেসিডেন্ট শাসন জারি করা হয়েছিল। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

 

Walton Ads