মিয়ানমারে সহিংসতায় জড়িতদের জবাবদিহি দাবি করেছেন জাতিসংঘের 

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর গণহত্যার ৬ বছর পূর্ণ হয়েছে। এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার টম অ্যান্ড্রুজ রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বনেতাদের উদাসীনতার অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা এবং মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুতদের সহায়তা করার আহ্বান জানান তিনি।  

টম অ্যান্ড্রুজ বলেন, রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির সমর্থনে নীতিগত ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ ছাড়া আমরা আর একটি বছরও পার হতে দিতে পারি না।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের অপরিসীম দুর্ভোগের জন্য দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা দায়ি। গণহত্যা অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া মিন অং হ্লাইং এখন একটি অবৈধ সামরিক জান্তার প্রধান। এই সামরিক জান্তা মিয়ানমারজুড়ে বেসামরিক জনগণের উপর হামলা চালাচ্ছে। তাকে অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং তাকে তার অপরাধের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী উত্তর রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত করতে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে। পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে সৈন্যরা বেসামরিক রোহিঙ্গা নাগরিকদের হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন করে এবং গ্রামগুলো পুড়িয়ে দেয়। 

তবে সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের ক্লিয়ারেন্স অপারেশন রোহিঙ্গা জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছিল। 

আক্রান্ত রোহিঙ্গারা সেদিন থেকেই বাংলাদেশে চলে আসতে শুরু করে।  ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বর্তমানে কক্সবাজার এবং ভাসানচরে অবস্থান করছে। 

এন্ড্রুজ বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে এখনো আনুমানিক ৬ লাখ মানুষ রয়ে গেছেন। যেখানে তারা অধিকারবিষয়ক কঠোর বিধিনিষেধ এবং আরও সহিংসতার হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন।

জাতিসংঘের এই বিশেষজ্ঞ বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনের সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও তাদের পর্যাপ্ত সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অপরাধের দায় সম্পূর্ণভাবে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের প্রতি দায়িত্বপালনে ব্যর্থ হয়েছে। নৃশংস অপরাধের অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা পরিষদ বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাঠায়নি।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের আক্রমণ ও হত্যা করা দেশটির সামরিক বাহিনীর কাছে কিছু দেশ অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। জান্তা সরকারের সৈন্যরা এখন সারা দেশে বেসামরিক জনগণের উপর বন্দুক চালাচ্ছে। যে সব দেশ মানবাধিকারকে সমর্থন করে, তারা সামরিক বাহিনীর এই হামলা ও রসদ পাওয়া ঠেকানোর সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও রোহিঙ্গাদের তাদের প্রয়োজনের সময়ে পর্যাপ্ত সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আর্থিক অনুদান কমে যাওয়ায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে রেশন কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার আগে বাংলাদেশ থেকে তাদের প্রত্যাবাসনের একটি অদূরদর্শী পরিকল্পনাকে সমর্থন করছে কিছু দেশের সরকার।

বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার বলেন, উদাসীনতার মারাত্মক অসাড়তার অবসান ঘটানোর জন্য বৈশ্বিক সমর্থন তাদের প্রয়োজন এবং এটা তাদের প্রাপ্য। গণহত্যার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি করতে এবং মিয়ানমারের সীমানার অভ্যন্তরে ও তার বাইরে থাকা রোহিঙ্গাদের জীবন বাঁচাতে এবং দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া দরকারসূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads