পশ্চিমবঙ্গে পহেলা বৈশাখকে ‘বাংলা দিবস’ করার প্রস্তাব

 বৈশাখের প্রথম দিনটিকে ‘বাংলা দিবস’ হিসাবে পালন করার প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার একটি কমিটি। এ প্রস্তাব ছাড়াও রাজ্য সঙ্গীত হিসাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ গানটিকে গ্রহণ করার প্রস্তাবও দিয়েছে বিধানসভার ওই বিশেষ কমিটি। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

অনেকে মনে করছেন, বিজেপি এবং বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে 'বাংলা দিবস' পালনের বিষয়টি সামনে এসেছে।

এর আগে ২০ জুন তারিখটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালন করতে শুরু করেছে ভারত সরকার, বিজেপি এবং অন্যান্য হিন্দুত্ববাদী সংগঠন।

বিবিসি জানায়, ভারত ভাগের আগে ১৯৪৭ সালের ২০ জুন অবিভক্ত বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায় বাংলা ভাগ হবে কী না, সেই প্রশ্নে ভোটাভুটি হয়েছিল।

হিন্দুত্ববাদী নেতা ও হিন্দু মহাসভার নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীই উদ্যোগ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে পৃথক করে এনেছিলেন বলে দাবি করে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো, তাই সেই দিনটিকেই রাজ্যের প্রতিষ্ঠা দিবস ও শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর কৃতিত্বকে তুলে ধরার উদ্যোগ নেয় তারা।

এর আগের কয়েক বছরে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালনের অনুষ্ঠানে জাঁকজমক কম থাকলেও এবছর কেন্দ্রীয় সরকার রীতিমতো নির্দেশ জারি করে যে দেশের প্রতিটি রাজ্যের সরকারকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসাবে পালন করতে হবে।

কলকাতায় রাজ্যপালের নিবাস রাজভবনে আনন্দানুষ্ঠান হয়েছিল সেদিন। ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০ জুন, ১৯৪৭ তারিখটিকে যদি উদযাপনই করতে হয়, সেটাকে আনন্দানুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে না করাই শ্রেয় ছিল। ওই ভোটাভুটির ফলে দেশভাগের সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়েছিল, যার ফলে প্রায় দশ লাখ মানুষের প্রাণ গিয়েছিল, ছিন্নমূল হয়েছিলেন এক কোটি ২০ লাখ মানুষ। তাদের মতে, এটা কোনও উদযাপনের দিন হতে পারে না।

হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো অবশ্য বলে, ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গের ‘ভারত-ভুক্তি’র দিন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভার একটি কমিটি পাল্টা ‘দিবস’ হিসাবে পহেলা বৈশাখকে ‘বাংলা দিবস’ হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় যে কমিটি তৈরি করেছিলেন, তার উপদেষ্টা হিসাবে রাখা হয়েছিল ইতিহাসবিদ ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের গার্ডিনার অধ্যাপক সুগত বসুকে। 

বিবিসি বাংলাকে অধ্যাপক বসু বলছিলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে ২০ জুন দিনটিকে উদযাপন করেছে। ব্রিটিশরা ৩ জুন, ১৯৪৭-এই দেশভাগের পরিকল্পনা ঘোষণা করে দিয়েছিল। তাই ২০ জুন দিনটি আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক দুঃখজনক পাদটীকা মাত্র।’

এর কোনও বিশেষ ঐতিহাসিক তাৎপর্য নেই। তাই আমরা কমিটিতে ভাবনা চিন্তা করে ঠিক করলাম যে রাজ্যের জন্য কোনও বিশেষ একটি দিন যদি বাছতেই হয়, সেরকম একটা শুভ দিন আমাদের বাংলার নববর্ষ, পহেলা বৈশাখই হওয়া উচিত।

কমিটির সুপারিশের পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে চলেছেন ২৯ আগস্ট। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads