ভারতে হরিয়ানার নূহতে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের শোভা যাত্রা নিয়ে ১৪৪ ধারা জারি
ভারতে বিজেপিশাসিত হরিয়ানার নূহে ফের হিন্দুত্ববাদীরা শোভা যাত্রা বের করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর নূহতে ব্রজমণ্ডল শোভাযাত্রা কর্মসূচি বন্ধ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। মিছিল বের করার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। ‘সর্ব হিন্দু সমাজ’-এর ব্যানারে এই শোভা যাত্রা হবে। এতে অনেক সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এর আগে বিশ্বহিন্দু পরিষদের নেতা দেবেন্দ্র সিং বলেছিলেন, ধর্মীয় শোভাযাত্রার জন্য কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই।
নূহের ডেপুটি কমিশনার ধীরেন্দ্র খড়গাতা বলেছেন, ‘আমরা ব্রজমণ্ডল শোভাযাত্রা বের করার অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছি। কিন্তু তারপরও কিছু মানুষ এই যাত্রায় অনড়। কিন্তু আমরা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছি।’ এদিকে, যেকোনো প্রকার সহিংসতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নূহ প্রশাসন ২৫ থেকে ২৮ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিসেবা এবং বাল্ক এসএমএস নিষিদ্ধ করেছে। এ সময়ে শুধুমাত্র কলিং পরিসেবা চালু থাকবে।
পুলিশের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনও তৎপর হয়েছে। নূহের জেলা প্রশাসক ধীরেন্দ্র খড়গাতা বলেন, সোমবার নূহের স্কুল-কলেজ ও ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হরিয়ানা পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজিপি) শত্রুজিৎ কাপুর গতকাল (শনিবার) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী রাজ্যের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে একটি বৈঠকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানিয়েছেন। পাঞ্জাব, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান এবং কেন্দ্রশাসিত প্রদেশ চণ্ডীগড়ের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন। শ্রী কাপুর বলেন, ৩/৭ সেপ্টেম্বর নূহতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি-২০ শেরপা গ্রুপের বৈঠক এবং গত ৩১ জুলাইয়ের সহিংসতার পরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রশাসন শোভা যাত্রার অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে পুলিশের মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুর সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্যের মাধ্যমে শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টাকারী ব্যক্তিদের নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে তথ্য শেয়ার এবং ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। এছাড়া, যেকোনো ধরণের ভিড় ঠেকাতে আন্তঃরাজ্য ব্যারিকেড করতে হবে। কাউকে আইন হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না বলেও পুলিশ কর্মকর্তা শত্রুজিৎ কাপুর মন্তব্য করেছেন।
গত ১৩ আগস্ট হিন্দুত্ববাদীদের এক মহাপঞ্চায়েতে (সমাবেশ) দেওয়া বক্তব্যে হিন্দুত্ববাদী নেতারা দাবি করেছিলেন, মুসলিম-অধ্যুষিত জেলা নূহের হিন্দুদের আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্রের লাইসেন্স পেতে ছাড় দেওয়া উচিত। বৈঠকে হরিয়ানা গোরক্ষক দলের আচার্য আজাদ শাস্ত্রী বলেন, এফআইআর নিয়ে ভয় পাবেন না। তিনি বলেন, আমাদের অবিলম্বে মেওয়াতে ১০০টি রাইফেলের লাইসেন্স নিশ্চিত করা উচিত।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই উগ্রহিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্বহিন্দু পরিষদের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে হরিয়ানার নূহে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মসজিদের একজন ইমাম সাহেব, দু’জন হোমগার্ডসহ ৬ জন নিহত হয়েছিলেন। সে সময়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে নূহ, ফরিদাবাদ, পালওয়ালসহ অনেক জায়গায় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া নূহতে কারফিউ জারি করা হয়। এসব ঘটনার জের না মিটতেই পুলিশের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও এবার ফের সেই নূহতে হিন্দুত্ববাদীদের শোভাযাত্রা বের করার ঘোষণায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি