দক্ষিণ কোরিয়া তরুণদের মাত্র এক তৃতীয়াংশ বিয়েকে ইতিবাচক ভাবে

দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণরা ক্রমবর্ধমানভাবে বিয়ে এবং পিতৃত্ব থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। দেশটির তীব্রভাবে কমে যাওয়া জন্মহার তার স্পষ্ট প্রমাণ।

এক জরিপে ৩৬.৪% দক্ষিণ কোরিও নাগরিক বলেছেন যে তাদের বিয়ে সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা রয়েছে। অর্থনৈতিক উদ্বেগ, অসাধ্য আবাসন এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় তাদের বিয়ে করতে অনুৎসাহিত করছে।

অথচ দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার গত ১৬ বছরে তরুণদের বিয়ে ও সন্তান নিতে উৎসাহীত করতে বিভিন্ন কমর্সুচি বাস্তবায়নে ২শ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।

কিন্তু তরুণরা বলছেন বিয়ের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বা এটির প্রয়োজন নেই এমন অনুভূতি তারা ধারণ করছেন।

মাত্র ২৮ শতাংশ তরুণী বিয়েকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন।

২০১৯ সালে সিএনএনকে দেশটির তরুণীরা জানায় বিয়ে নিয়ে নিরাপত্তার উদ্বেগ, যৌন অপরাধের ভয়, ভ্রমণ এবং লিঙ্গ বৈষম্য সম্পর্কে উচ্চ-প্রোফাইল খবরে তাদের বিতৃষ্ণা আরো বেড়েছে।

তরুণীরা মনে করে বিয়ে করলে তাদের কর্মজীবন বা শিক্ষার সাথে আপস করতে হতে পারে, বিশেষ করে সন্তানের জন্মের পরে পুনরায় কাজে প্রবেশ করতে অসুবিধা হতে পারে। এর মানে হচ্ছে অনেক শিক্ষিত নারী চাকরিকে বিয়ে বা সন্তান ধারণের মত বিষয়ের চেয়ে প্রাধান্য দিচ্ছে।

বিয়ে করলেই সন্তান নেওয়ার প্রয়োজন আছে এধারণা থেকে বের হয়ে আসা তরুণ-তরুণীর সংখ্য ২০১৮ সাল থেকে ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। আবার প্রায় ৪০% বলেছেন যে তারা বিবাহ ছাড়াই সন্তান ধারণ করতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন দেশটিকে জনসংখ্যার সংকট থেকে ফিরিয়ে আনতে এধরনের মনোভাব পরিবর্তন জরুরি। গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার উর্বরতার হার, ইতিমধ্যেই বিশ্বের রেকর্ড সর্বনিম্ন ০.৭৮-এ নেমে এসেছে যা  স্থিতিশীল জনসংখ্যার জন্য প্রয়োজনীয় ২.১ এর অর্ধেকও নয় এবং বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধূসর দেশ জাপানের (১.৩) থেকেও অনেক কম।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads