পাকিস্তানে উচ্চ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে আরও একজনের আত্মহত্যা, দেশজুড়ে বিক্ষোভ
এর আগের সপ্তাহেও একই কারণে আরও এক পাকিস্তানী আত্মহত্যা করেছিলো। উচ্চ বিদ্যুৎ বিলের কারণে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে গত কয়েকদিন ধরেই বিক্ষোভ চলছে। মঙ্গলবার বিক্ষোভের পঞ্চম দিনেও রাস্তায় নেমে আসে সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে ও বিদ্যুৎ বিলের কাগজ পুড়িয়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানায় তারা।
অভিযোগ উঠেছে, পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের কাছে দিজকোটে ৪০,০০০ রুপি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পেরে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন। দিজকোটের সাবরি টাউন এলাকার বাসিন্দা মুহাম্মদ হামজার (৩৫) পরিবার স্থানীয় পুলিশকে জানিয়েছে, আর্থিক অনটনে এমনিতেই সংকটাপন্ন জীবনযাপন করছিলেন হামজা। তার ওপর লাগামছাড়া বিদ্যুৎ বিলের বোঝা তার কফিনে শেষ পেরেক মেরেছে।
বিল পরিশোধ করতে না পেরে নিজের ওপর গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন হামজা। নাবালক দুই সন্তান রয়েছে তার। তবে পরিবার এমন দাবি করলেও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিতে এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে দিজকোট পুলিশ।
এরমধ্যে সোমবার পাঞ্জাবের গোজরা ও টোবা টেক সিং ইন্টারচেঞ্জের মধ্যে দুটি পয়েন্টে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করায় ১৫৮ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছে গোজরা সদর পুলিশ। মামলার পরেও মঙ্গলবার কামালিয়ায় বিদ্যুৎ বিলের উচ্চ শুল্ক নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছে জনগণ। এ সময় তারা বিদ্যুৎ বিলের কাগজ পোড়ানোর পাশাপাশি সরকারবিরোধী স্লোগানও দিতে থাকে।
আর এ প্রতিবাদে পাঞ্জাবের সারগোদা শহরের ব্যবসায়ীরা আগামী ২ সেপ্টেম্বর এবং ওকারার ব্যবসায়ীরা বৃহস্পতিবার হরতাল পালনের ঘোষণা দিয়েছেন।
পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারুল হক কাকারের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিস্তিতে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিষয়ে সিদ্ধান্তগ্রহণ নিয়েও অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, এই সিদ্ধান্তগুলোর কিছু প্রভাব রয়েছে, যে কারণে আইএমএফ'কে বোর্ডে নেওয়া দরকার। ‘আমরা জানাচ্ছি যে, আমাদের অর্থমন্ত্রী শামশাদ আখতার তাদের (আইএমএফ) সঙ্গে ইতোমধ্যেই আলাপ শুরু করেছেন। সুতরাং আমি আশাবাদী, শিগগিরই আমরা এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা পাবো,’ যোগ করেন তিনি। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি