নতুন মানচিত্র নিয়ে চীনের নতুন কৌশলে পুরনো গন্ধ পাচ্ছে ভারতসহ ৫ দেশ

২৮ আগস্ট নতুন এক মানচিত্র প্রকাশ করে চীন দাবি করে, ভারতের ভূখণ্ডের বেশ কিছু অংশ আসলে তাদের। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ এবং লাদাখের কিছু অংশকে নিজেদের এলাকা বলে নতুন মানচিত্রে দাবি করেছে চীন।

সীমান্ত নিয়ে ভারতের সঙ্গে চীনের সমস্যা নতুন নয়। অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা এবং লাদাখের আকসাই চিন বলে চিহ্নিত অংশ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই টানাপড়েন চলছে ভারত-চিনের মধ্যে।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই মানচিত্র প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মন্তব্য করেন, “কেউ একটা আজগুবি দাবি করলেই অন্যের ভূখণ্ড তার হয়ে যায় না!” সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একে চীনের ‘পুরনো বদভ্যাস’ বলেও বর্ণনা করেছেন জয়শঙ্কর। জয়শঙ্কর বলেছেন, ‘‘চীন ১৯৫০ সাল থেকে এটা করে আসছে। কিন্তু তা বলে যা ভারতের, তা হঠাৎ চীনের হয়ে যেতে পারে না। ভারত নিজের মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে জানে। এবং তারা রক্ষা করবেও।’’

ভারতের এই দাবিতে সুর মিলিয়েছে এশিয়ার আরও চারটি দেশ। তাদের দাবি, চীনের এই মানচিত্র কূটনীতির ভুক্তভোগী তারাও। নতুন মানচিত্রে তাদেরও এলাকায় ভাগ বসিয়েছে চীন।

এই চারটি দেশ হল ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন এবং তাইওয়ান। চীনের এই আগ্রাসনের বিরোধিতা করে এই চারটি দেশ জানিয়েছে, তারা এই দখলদারি বরদাস্ত করবে না।

শুক্রবার ভিয়েতনাম সরকার একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে থাকা স্প্র্যাটলি ও পারাসেল দ্বীপের এলাকাগুলিকে নতুন মানচিত্রে নিজেদের বলে দাবি করেছে চীন। এমনকি, ভিয়েতনামের জলভাগের একাংশকেও ওই মানচিত্রে চিনের অন্তর্ভুক্ত বলে দেখানো হয়েছে।

একই ধরনের অভিযোগ জানিয়েছে ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া এবং তাইওয়ান। তারা সাফ জানিয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে চীন। সেই লক্ষ্যেই এমন উস্কানিমূলক আচরণ করছে বেইজিং।

যদিও এই সব দোষারোপ সত্ত্বেও চীন কিছুটা নির্বিকার। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন দাবি করেছেন, চীন প্রতি বছরই মানচিত্রে নতুন তথ্য সংযোজনের পর প্রকাশ করে। এ বারও তা-ই হয়েছে।

গত ২৮ আগস্ট চীনের সরকারি ওয়েবসাইট প্রকাশিত হয় দেশের ‘স্ট্যান্ডার্ড’ মানচিত্রের ২০২৩ সংস্করণ। তাতে ভারতের অরুণাচল এবং আকসাই চীন ছাড়াও তাইওয়ান এবং দক্ষিণ চীন সাগরের ‘নাইন-ড্যাশ লাইন’-কেও নিজেদের মানচিত্রের অন্তর্গত বলে দেখায় চিন প্রশাসন।

 নতুন মানচিত্রের ছবি পোস্ট করে জানানো হয়, যে পদ্ধতিতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তাদের ‘জাতীয় সীমানা’ চিত্রায়িত করে, সেই একই পদ্ধতিতে এই মানচিত্রটিও তৈরি হয়েছে।

কেন হঠাৎ নতুন মানচিত্রের প্রয়োজন পড়ল? সে প্রশ্নের জবাব দিয়ে ওয়েনবিন বলেন, ‘‘যা হয়েছে, তা সার্বিক ভালর জন্যই। চীন সরকারের লক্ষ্য হল, দেশের প্রতিটি জনগণের কাছে ভাল পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। নতুন মানচিত্র সেই কাজে সাহায্য করবে।’’

একই সঙ্গে ওয়েনবিনের দাবি, ‘‘নতুন মানচিত্র অনুসারে যাঁরা চিনের জনগণ, তাঁদের চীনের নির্দিষ্ট নীতি মেনে চলতে হবে। বিষয়টিকে যুক্তি সহকারে দেখা হবে বলে আশা চীনের।’’

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল নয়। চীন যা করছে তা আদতে সুপরিকল্পিত উস্কানি। এই ভাবেই ভারতকে তাতাতে চাইছে চিন। কূটনীতির ভাষায় এই ধরনের কৌশলকে বলা হয় ‘মানচিত্র আগ্রাসন’।

প্রায় ১৮টি দেশের সঙ্গে চীনের স্থল বা জলসীমা নিয়ে যে বিরোধ আছে, তাদের অনেকের সঙ্গেই চীন ইচ্ছাকৃত ভাবে বহু দিন ধরে এ জিনিস করে আসছে বলে দাবি দিল্লির জহরলাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশেষজ্ঞের। ওই অস্ত্রই তারা প্রয়োগ করেছে ভারতের উপর।

লোকসভা ভোটের আগে বিরোধী দলগুলি কেন্দ্রকে আক্রমণ করতে শুরু করেছে সীমান্ত রক্ষা নিয়ে। তাদের দাবি, সীমান্তের প্রায় ২০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা চীনের দখলে চলে গিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ভারতের সীমান্ত চীনের দখলে চলে যাওয়া নিয়ে যে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে, সেটাকে আরও উস্কে দিতেই এই নতুন মানচিত্র প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেজিং।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads