চীনের নতুন মানচিত্র নিয়ে ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির শঙ্কা
লম্বা সময় ধরেই চীন ভারত দ্বন্দ্বের প্রধান একটি কারণ হলো প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর তিন হাজার চারশো চল্লিশ কি.মি. দীর্ঘ সীমান্ত। এ নিয়ে একাধিক যুদ্ধ ও সংঘাতে জড়িয়েছে দুই দেশ।
উত্তেজনা কমাতে ১৯৯৬ সালে সীমান্তে অস্ত্র ব্যবহার না করার চুক্তি হয় ভারত ও চীনের মধ্যে। তবে ২০২০ সালে লাদাখ সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত তিন বছরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠে।
পরবর্তী সময়ে আরুণাচল প্রদেশের ১১টি জায়গার নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং সর্বশেষ সমগ্র অরুণাচল প্রদেশকে অন্তর্ভুুক্ত করে চীনের মানচিত্র প্রকাশ করায় উত্তেজনা দেখা দেয়।
রিত্যুষা তিত্তয়ারী (শিক্ষক ও চীন বিষয়ক বিশ্লেষক,দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়) এর মতে চীনের অংশ হিসেবে অরুণাচলকে দেখানো খুবই কারসাদী মূলক কৌশল। এটা করার কোন কারণই নেই। কারণ সীমান্ত নিয়ে ইতিমধ্যে অনেক জটিলতা আছে। চীন ও ভারত এগুলো নিয়ে এখন ও কোন ঐক্যমতে পৌঁছায়নি। তার উপর নতুন করে কোন অঞ্চল দাবি করলে তা আরও জটিল হবে। আমি মনে করি না চীন বা ভারত কারও জন্যই এই ধরণের সিদ্ধাস্ত ভালো হবে।
তবে বিষয়টিতে ভিন্ন ভাবে দেখছে চীন বিষয়ক বিশ্লেষক সৈয়দ মাহামুদ আলীর (সমর বিশ্লেষক এবং আ্যাসোসিয়েট ফেলো, মালয় বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়া) মতে ১৯৪৮ সালে তখন অন্য সরকার চীনে ছিলেন যাদেরকে বলা হয় জাতীয়তাবাদী সরকার। তারা যে মানচিত্র প্রকাশ করে ছিলেন যা বিশ^ব্যাপী গৃহীত হয়েছিলো সেটাই নতুন করে কমিউনিস্ট পার্টির সরকার আবার নতুন করে ছাপিয়েছে। যদিও অন্যান্য রাষ্ট্র এটা নিয়ে অনেক কথা হয়তো বলছে বিশেষ করে ভারতীয়রা। কিন্তু চীনের মানচিত্রে এই দাবিদাওয়ার বিষয়টি ১৯৪৮ সালের পরে কোন পরিবর্তন হয়নি।
সীমান্ত নিয়ে দ্বন্দ্বে অনেক আলোচনা হলেও কখনো কোন ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারেনি ভারত ও চীন। ফলে সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিভিন্ন সময় চীন মানচিত্র প্রকাশের কারণে উত্তেজনা বেড়েছে তাদের মাঝে।
কেবল সীমানা বিরোধই না অর্থনৈতিক ও বিশ^ রাজনীতিতে নতুন শক্তিধর দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশের মতো দিকগুলো দেশ দুটিকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। আর এইসব দিক বিবেচনা করে ভারতে অনুষ্ঠিত জি টুয়েন্টি সম্বেলনে চীনের প্রসিডেন্ট সি জিং পিং যোগ দিচ্ছেন না বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি