১০০ বছরে নাম বদল হলো যত দেশের
দেশের নাম ‘ইন্ডিয়া থেকে বদলে ‘ভারত’ করার প্রস্তাব আনতে পারে মোদি সরকার। চলতি মাসের শেষে বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে কেন্দ্রীয় সরকার। অনুমান, তখন আনা হতে পারে নামবদলের প্রস্তাব। অতীতেও বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ নামবদল করেছে। তার নেপথ্যে রয়েছে কিছু কারণ। কেউ ভাবমূর্তি বদলের জন্য, কেউ আবার সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে বদলেছে নাম।
দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ার সীমান্তে রয়েছে টার্কি, যা প্রাচ্যে ‘তুরস্ক’ নামে পরিচিত। সেই দেশের নামও বদলায়। ২০২২ সালের জুনে জাতিসংঘকে এই দেশ জানায়, তাদের যেন ‘তুরকিয়ে’ নামে ডাকা হয়।
ছিল হল্যান্ড। হল ‘নেদারল্যান্ডস’। ডাচ সরকারের তরফে জানানো হয়, বিশ্বের কাছে দেশের ভাবমূর্তি বদলাতেই এই পদক্ষেপ। নেদারল্যান্ড সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, মাদকের রমরমা, দেহব্যবসার কারণে ইউরোপের এই দেশের বেশ বদনাম হয়েছিল। নেতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছিল। সেই ভাবমূর্তি পরিবর্তনের কারণেই নামবদলের ভাবনা।
চলতি বছরের শুরুতে ‘চেখিয়া’ হয়েছে চেক রিপাবলিক। ২০১৬ সাল থেকে এই দুই নামেই পরিচিত হচ্ছে এই দেশ। তবে এখন থেকে এই ছোট নামেই পরিচিত হতে চলেছে দেশটি। দেশের সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, খেলোয়াড়দের জার্সিতে এত বড় নাম লিখতে সমস্যা দেখা দিত। এই দেশে তৈরি পণ্যের গায়েও এত বড় নাম লিখতে অসুবিধা হচ্ছিল সংস্থাগুলির। সে কারণে নামবদল।
২০১৮ সালে আফ্রিকার দক্ষিণের দেশ কিংডম অব সোয়াজিল্যান্ডের নাম হয় কিংডম এসওয়াতিনি। রাজা তৃতীয় এমসোয়াতি দেশের নামবদল করেন। শাসকের তরফে জানানো হয়েছিল, সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে নামের মিল থাকায় ধন্দ তৈরি হচ্ছিল। সে কারণেই নামবদল।
বর্মি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিল দেশে সংখ্যাগুরু। সে কারণে ভারতের পূর্বের দেশটির নামও ছিল বার্মা। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় সামরিক
সরকার ১৯৮৯ সালে দেশের নাম বদলে ‘মিয়ানমার’ করেন।
ব্রিটিশরা ভারতের দক্ষিণে ছোট্ট দেশটির নাম রেখেছিল ‘সিলোন’। ব্রিটিশ শাসকদের চিহ্ন মুছে ফেলতে ১৯৭২ সালে দেশটির নাম হয় শ্রীলঙ্কা। ২০১১ সালে সরকারি নথিপত্রেও ‘সিলোন’ নামটির ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়।
নাম ছিল কাম্পুচিয়া। তার ইংরেজি ‘অনুকরণ’ হল কম্বোডিয়া। ১৯৭৬ সালে সে দেশের কমিউনিস্ট শাসকেরা দেশকে কাম্পুচিয়া বলে অভিহিত করতেন। কমিউনিস্ট শাসনের অবসান হওয়ার পর দেশের নাম বদলে সরকারি ভাবে ‘কম্বোডিয়া’ রাখা হয়।
২০১৯ সালে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ রিপাবলিক অব ম্যাসিডোনিয়ার নাম বদলে রাখা হয় ‘রিপাবলিক অব নর্থ ম্যাসিডোনিয়া’। যদিও সরকারের তরফে জানানো হয়, দেশের মানুষেরা ‘ম্যাসিডোনিয়ান’ হিসাবেই পরিচিত হবেন।
এক কালে পারস্য (পার্সিয়া) নামে পরিচিত ছিল। ১৯৩৫ সালে ক্ষমতায় আসেন সম্রাট রেজা শাহ। তখনই দেশের নাম বদলে ‘ইরান’ রাখা হয়। সম্রাটের তরফে জানানো হয়েছিল, দেশে নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। তাই নামবদল। যদিও এখনও এ দেশের খাবার, শিল্প, সাহিত্য ‘পারসিক’ হিসাবেই পরিচিত। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি