কোনারকের সূর্য ঘড়ির ব্যাখ্যা বাইডেনকে দিলেন মোদি
জি২০ সম্মেলনে সমস্ত অতিথিদের ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অভ্যর্থনা জানিয়েছেন সূর্য ঘড়ির সামনে।
অভ্যর্থনার সময় ঘড়িটি সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
নরেন্দ্র মোদি তাৎক্ষণিকভাবে বাইডেনকে এই ঘড়িটির বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। বাইডেন ঘড়িটি দীর্ঘক্ষণ দেখেন।
মোদি বাইডেনকে বোঝান ঘড়িটি প্রাচীন ভারতের একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। যা কোনারক সূর্যমন্দিরে ছিল। ১২৫৫ খ্রিস্টাব্দে মহারাজ নরসীমা ১ এই মন্দির ও ঘড়ি স্থাপন করেন। এটি ভারতের জাতীয় পতাকায় স্থান পেয়েছে। এই ঘড়িটি দিয়ে এখনো সময় মাপা যায়। এটি ভারতের প্রাচীন বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে।
উল্লেখ্য, সময় অ্যান্টি ক্লক ওয়াইজ হিসাবে গণনা করা হয় এই ঘড়িতে। চাকার মধ্য দাঁড়টির ছায়া কোথায় পড়ছে তা হিসেবে সময় বলে দেওয়া যায়। এই চাকা বা সূর্য ঘড়ির ৮টি বড়(মোটা) স্পোক এবং ৮টি ছোট(পাতলা) স্পোক আছে। ৮টি বড় স্পোক ২৪ ঘণ্টাকে ৮টি সমান অংশে বিভক্ত করেছে যার অর্থ দুটি বড় স্পোকের মাঝের সময়টি ৩ ঘণ্টা বা ১৮০ মিনিট। দুটি বড় স্পোকের ঠিক মাঝ বরাবর আছে একটি করে ছোট স্পোক অর্থাৎ একটি বড় স্পোক ও ছোট স্পোকের মাঝের সময়টা হল দেড় ঘণ্টা বা ৯০ মিনিট।
এবার খেয়াল করতে হবে চাকার বৃত্তাকার অংশ, সেই পরিধি বরাবর অনেক গোল গোল বিড দেখতে পাবেন, গুণলে দেখা যাবে, বড় স্পোক ও ছোট স্পোকের মাঝে ৩০টি করে বিড আছে। অর্থাৎ বড় স্পোক ও ছোট স্পোকের মাঝের ৯০ মিনিট সময়কে এই ৩০টি বিড সমান ভাবে ভাগ করেছে সেক্ষেত্রে এক একটি বিড ৩ মিনিটের সমান। বিডগুলি যথেষ্ট বড়, তাই বোঝা যায় ছায়া বিডের কেন্দ্রে পড়েছে না এক প্রান্তে পড়েছে। এই ভাবে মিনিটও সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব। জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত, জ্যামিতি আর ভাস্কর্যের এক অদ্ভুত জটিল আবার সহজ হিসাবের নিদর্শন এই সূর্য ঘড়ি।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি