জি২০ সম্মেলনে ভারতের ব্যয় ৪,১০০ কোটি রুপি, প্রতিবাদমুখর বিরোধীরা

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বাজেটে জি২০ সম্মেলন আয়োজনে বরাদ্দ রেখেছিলেন ৯৯০ কোটি রুপি। কিন্তু ব্যয় হয়েছে ৪,১০০ কোটি রুপি। এই তথ্য টুইটারে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মিনাক্ষ্মী লেখি। এই ব্যয় হয়েছে দিল্লিকে নতুন করে সাজিয়ে তুলতে। এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর। বিতর্কের সূত্রপাত এই ব্যয় নিয়েই।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, জি-২০ সম্মেলন ঘিরে দিল্লিকে সাজানোর কথা বলে গোটা দিল্লি মুড়ে দেয়া হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবিতে। এছাড়া অমিত শাহ, জে পি নাড্ডার নেতৃত্বে বিজেপির নেতা এবং সরকারের মন্ত্রীরা মাঠে নেমে পড়েন সম্মেলনের সাফল্যের কৃতিত্ব নরেন্দ্র মোদীকে দিতে।

কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক কে সি বেনুগোপাল অভিযোগ করেন, গত বছর ইন্দোনেশিয়ার বালিতে জি-২০ সম্মেলনের জন্য ইন্দোনেশিয়া যে পরিমাণ অর্থ খরচ করেছিলো ভারতীয় রুপিতে তার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৬৪ কোটি। ২০১৯ সালে জাপান ব্যয় করেছে, ২,৬৬০ কোটি। এর আগের বছর আর্জেন্টিনা ব্যয় করেছে ৯৩১ কোটি। মোদি সরকার যা খরচ করেছে, তার দশ ভাগের এক ভাগেরও কম। তিনি বলেন, কোভিড মহামারির পর সব দেশের সরকারই অনুষ্ঠানের খরচে কাটছাঁট করে। কিন্তু মোদি সরকার বাজেটে ৯৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখলেও খরচ করে ফেলেছে ৪,১০০ কোটি রুপি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি নথিপত্র অনুসারে দুই দিনের এই আয়োজনে ১২টি খাতে উল্লিখিত অর্থ ব্যয় হয়েছে। তবে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কংগ্রেস এবং তৃণমূল দাবি করেছে, সরকার জি২০ সম্মেলনের জন্য বাজেটে যা বরাদ্দ করা হয়েছিল তার থেকে ৩০০ শতাংশ বেশি ব্যয় করেছে।

বিরোধীরা আগেই অভিযোগ তুলেছিলেন, সম্মেলনকে অজুহাত করে নরেন্দ্র মোদী সামনের নির্বাচনের জন্য সরকারি খরচে নিজের প্রচার সেরে নিচ্ছেন। কংগ্রেসের অভিযোগ সরকার মধ্যবিত্ত থেকে কৃষকদের সমস্যা সমাধানে অর্থের বন্দোবস্ত করে না, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি তৈরিতে কোটি কোটি রুপি খরচ করে।

সাংগঠনিক সম্পাদক আরো বলেন, এই সরকার মানুষের জন্য সস্তায় রান্নার গ্যাস, পেট্রল-ডিজেলের ব্যবস্থা করতে পারে না। কৃষকের ফসল নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ দেয় না। হিমাচল প্রদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয় না। অথচ ভাবমূর্তি তৈরি করতে ১০ গুণ বেশি অর্থ ব্য করে। শহরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে অর্থনৈতিক দুরবস্থা ঢাকা যাবে না।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জি-২০ সম্মেলনের খরচ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সম্মেলন উপলক্ষে যা খরচ হয়েছে, তার অধিকাংশই স্থায়ী পরিকাঠামো তৈরিতে ব্যয় করা হয়েছে। ফলে পরবর্তী সময়েও সেগুলো ব্যবহার করা হবে।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads