গাজায় ৭ হাজার নিহতের ৩ হাজার শিশু, ইসরায়েলি কপ্টার ভূপাতিত, হামলায় ৫০ জিম্মি হত

ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহত বেড়ে ৭ হাজার ২৮ জনে পৌঁছেছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২ হাজার ৯১৩ শিশু রয়েছে।ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় গাজায় প্রায় দুই লাখ বাড়ি আংশিক কিংবা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

গাজার আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পূর্ব অংশের আকাশে ইসরায়েলের একটি হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে হামাসের আল-কাস্সাম ব্রিগেড। তারা বলেছে, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে ইসরায়েলি হেলিকপ্টারটি ধ্বংস করা হয়েছে। এটি ধ্বংস করতে ‘সাম-সেভেন’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

আল-কাসসাম ব্রিগেড বলেছে, তাদের যোদ্ধাদের হাতে বন্দি থাকা প্রায় ৫০ ইসরায়েলি নাগরিক ইসরায়েলের বিমান হামলাতেই মারা গেছে। টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে কাশেম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু ওবাইদা বৃহস্পতিবার এই দাবি করেন। তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কোনও তথ্য দেননি।

গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ইরাকে বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ। রপ্তানির অপেক্ষায় থাকা তেলের ট্রাক অবরোধ করছেন তারা। এসব ট্রাক তেল নিয়ে জর্ডানে যাওয়ার কথা ছিল। বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্থাপন করা দেশে তেল রপ্তানি করতে দেবেন না তারা।

 ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় পুরোদমে স্থল হামলা চালাতে বিপুলসংখ্যক সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম জড়ো করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এরই মধ্যে উপত্যকাটিতে সীমিত পরিসরে স্থল অভিযান চালিয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য গাজায় সর্বাত্মক স্থল হামলা বিলম্ব করতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল।

 মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্সকে বলেন, গাজায় ইসরায়েলের সেনারা প্রবেশ করলে তৎপর হয়ে উঠতে পারে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করা মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালাতে পারে তারা। বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে গাজায় ইসরায়েলের নারকীয় হামলায় দিন দিন বাড়ছে লাশের সারি, আহতদের আর্তনাদ। বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হালনাগাদ তথ্য বলেছে, উপত্যকাটিতে ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের অব্যাহত বোমা হামলায় ৭ হাজার ২৮ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে শিশু ২ হাজার ৯১৩টি। নারী ১ হাজার ৭০৯ জন এবং বৃদ্ধ ৩৯৭ জন। এর মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিহত হয়েছেন প্রায় ৫০০ জন।

বৃহস্পতিবারও গাজার দক্ষিণে খান ইউনিসসহ বিভিন্ন এলাকা তছনছ হয়েছে ইসরায়েলের বোমার আঘাতে। উপত্যকাটির প্রান্তে প্রান্তে এখন স্বজন হারানোর মাতম। উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে আড়াই মাস বয়সী ছেলেকে হারিয়ে এক বাবার আহাজারি ছিল এ রকম, ‘ও কি কাউকে মেরেছে? অপহরণ করেছে? নিষ্পাপ শিশুগুলো তো বাসার মধ্যে ছিল। তাদের দোষ কী?’ ইসরায়েলের বোমার আঘাতে তার স্ত্রী ও আরও তিন সন্তান মারা গেছে।

২০ দিন ধরে অবিরাম বোমাবর্ষণে গাজায় দুই লাখ আবাসিক ইউনিট (বাড়ি ও ফ্ল্যাট) ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন গাজার গণপূর্তমন্ত্রী মোহাম্মদ জিয়ারা। স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে গাজার ২৩ লাখ মানুষের মধ্যে অর্ধেকের বেশি (১৪ লাখ) গৃহহীন হয়েছেন। মারা গেছেন ১০১ স্বাস্থ্যকর্মী।

এ পরিস্থিতিতে গাজার কোনো স্থান নিরাপদ নয় বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিনবিষয়ক মানবিক ত্রাণসহায়তা সমন্বয়কারী লিন হেস্টিংস। আর গাজায় ইসরায়েলের হামলাকে বর্বরতা আখ্যায়িত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভাও বলেছেন, গাজায় যুদ্ধ নয়, গণহত্যা চলছে।সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads