ভাতে-মাছে বাঙালি, এক দশকে মাছ খাওয়ার হার বেড়ে দ্বিগুণ! 

 ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মৎস্য দপ্তর ২০২২-এর রিপোর্টে জানিয়েছিল, দেশটিতে সব থেকে বেশি মাছ খায় লক্ষদ্বীপের মানুষ। বছরে মাথা পিছু ১২৫ কেজি। রাজ্যগুলির মধ্যে গোয়ার মানুষ সব থেকে বেশি মাছ খান। 

অভ্যাস অনুসারেই মাছ খাওয়া হয়। রুই-কাতলার সঙ্গে ইলিশ, তোপসে, চিতল, কই, পাবদার মতো হরেক রকমের মাছ যদি মেলে, তবে মাছ খাওয়ার পরিমাণও বেড়ে যায়। মাছে-ভাতে বেঁচে থাকা বাঙালির কাছে এ কোনও নতুন খবর নয়। তবে এখন দেখা যাচ্ছে, গোটা দেশেই এই প্রবাদ সত্য।

ভারতের আর্থিক গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল কাউন্সিল অব অ্যাপ্লায়েড ইকনমিক রিসার্চ (এনসিএইআর)-এর সমীক্ষা বলছে, দশ বছরে দেশের মানুষের মাছ খাওয়ার পরিমাণ দ্বিগুণ বেড়েছে। এখন একজন ব্যক্তি বছরে ১৩ কেজিরও বেশি মাছ খাচ্ছেন। ২০১১-১২-তে সরকারি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, বছরে মাথা পিছু মাছ খাওয়ার পরিমাণ মাত্র ৭ কেজি। ২০২২-২৩-এ এনসিএইআর-এর সমীক্ষায় তা বেড়ে ১৩ কেজির উপরে চলে গিয়েছে। সমীক্ষায় ৫৬ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, বাজারে নানা রকম মাছ মিললে মাছ খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। মাত্র ১৯ শতাংশ পরিবার জানিয়েছেন, মাছের দাম কম হলে মাছ খাওয়ার পরিমাণ বাড়ে।

মাছ খাওয়ার সঙ্গেই বেড়েছে মাছ কেনার পিছনে খরচও। দশ বছর আগে কোনও পরিবার হাজার টাকার বাজার করলে তার মধ্যে মাত্র ৭৬ টাকা মাছের পিছনে খরচ হত। এখন হাজার টাকার বাজার হলে তার মধ্যে ১৬৮ টাকা মাছের পিছনে খরচ হচ্ছে। সে সময় একটি পরিবার মাসে গড়ে ২.৬৬ কেজি মাছ খেত। এখন তা প্রায় ৫ কেজিতে পৌঁছে গিয়েছে। সমীক্ষায় ২৮ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছরে তাদের মাছ খাওয়ার পরিমাণ বেড়েছে। 

এনসিএইআর-এর গবেষকরা বলছেন, গত দশ বছরে মাছ খাওয়ার পরিমাণ বাড়লেও আন্তর্জাতিক মাপকাঠির তুলনায় ভারতে মাছ খাওয়ার পরিমাণ এখনও কমই। রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্থা এফএও (ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন) এবং ওইসিডি (অর্গানাইজেশন ফর ইকনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট)-এর অনুমান অনুযায়ী, বিশ্বে বছরে মাথা পিছু ২০.৫ কেজি মাছ খাওয়া হয়। ২০৩১-এ তা ২১.৪ কেজিতে চলে যাবে। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads