মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলায় অংশগ্রহণ করতে কানাডা ও ৫ ইউরোপীয় দেশের আবেদন
কানাডা ও পাঁচটি ইউরোপীয় দেশ যৌথভাবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা গণহত্যা মামলায় অংশগ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) আবেদন করেছে। আইসিজের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এপি
পাঁচটি দেশের মধ্যে আছে, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য এবং কানাডা। আইসিজে জানিয়েছে, এসব দেশ ১৯৪৮ সালের গণহত্যার অপরাধ প্রতিরোধ ও সাজা বিষয়ক সনদের স্বাক্ষরকারী হিসেবে এই মামলায় গাম্বিয়ার সাথে অন্তর্ভুক্ত হতে চাচ্ছে।
আদালতের নিয়ম নিয়মানুযায়ী, এই মামলায় দেশগুলোর অংশগ্রহণের অর্থ হচ্ছে, ২০১৯ সালে মিয়ানমারে মুসলিম রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর যে হামলা চালিয়েছে, এর বিরুদ্ধে এখন এ দেশগুলোও আদালতে যুক্তি-তর্ক পেশ করতে পারবে।
মালদ্বীপ এককভাবে এই মামলায় অংশগ্রহণ করতে আদলতে আবেদন জানিয়েছে। মালদ্বীপ বলেছে, রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বর্বর আক্রমণ অব্যাহত থাকায় তাদের গভীর উদ্বেগ থেকে এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে গণহত্যা প্রতিরোধ ও এই অপরাধে শাস্তিবিধানের অভিপ্রায়ে তারা মামলায় পক্ষভুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আইসিজের বিধি অনুযায়ী, গণহত্যা সনদের আওতায় মামলা হলে মামলায় পক্ষ না হলেও সনদে স্বাক্ষরকারী অন্য যেকোনো দেশ শুনানিতে পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন করতে পারে।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে একটি ক্লিয়ারেন্স অভিযান শুরুর উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর হামলা শুরু করে। এ হামলায় সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, হত্যা এবং হাজার হাজার রোহিঙ্গার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে।
২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর গাম্বিয়া গণহত্যা সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী আদেশের জন্য আইসিজেতে আবেদন করে। এরপর আদালত শুনানি নিয়ে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি গণহত্যার ঝুঁকি থেকে রোহিঙ্গাদের রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়াসহ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে অন্তর্বর্তী আদেশ দেন। সে সময় আদালত গণহত্যার অভিযোগের সব সাক্ষ্য প্রমাণ সংরক্ষণেরও নির্দেশ দেন। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি