সাবেক সেনাপ্রধান, গোয়েন্দা প্রধানের বিরুদ্ধে ‘কখনো ষড়যন্ত্র করিনি’ বললেন নওয়াজ
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ বলেছেন, তার বিরুদ্ধে যারা ব্যবস্থা নিয়েছিল সে বিষয়ে প্রতিশোধ নিতে আগ্রহী নন তিনি। তবে জনগণের শত্রুদের ক্ষমা করে দেয়ার কোনো অধিকার তার নেই। তিনি বলেন, তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার মাধ্যমে ২৫ কোটি মানুষকে শাস্তি দেয়া হয়েছে।
নওয়াজ শরীফ বলেছেন, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) কমর জাভেদ বাজওয়া এবং গোয়েন্দা প্রধান জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ফয়েজ হামিদ বা জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) রাহিল শরীফের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র তিনি কখনো করেননি। লাহোরে পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভায় বক্তব্য রাখছিলেন নওয়াজ। চার বছর নির্বাসনে থাকার পর অক্টোবরে দেশে ফেরেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক। তারপর থেকেই তিনি আগামীতে চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
আগামী ৮ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে নওয়াজকে তার বিরুদ্ধে সব দুর্নীতির মামলা থেকে খালাস পেতে হবে। আল আজিজিয়া রেফারেন্সে তাকে সাত বছরের জেল এবং ২৫ লাখ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছিল। সেই মামলাকে তিনি ভুয়া বলে অভিহিত করেছেন। এ ‘ষড়যন্ত্রের’ সঙ্গে জড়িতদের নাম সামনে আনা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
নওয়াজ পুনরুল্লেখ করেন তিনি কোনো প্রতিশোধ নিতে আগ্রহী নন। তবে তাকে ক্ষমতা থেকে যারা উৎখাতে দায়ী তাদেরকে জবাবদিহিতায় আনা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। নওয়াজ বলেন, আমার সঙ্গে যা ঘটেছে তা এখন অতীত। তবে এ বিষয়টি শুধু আমাদের বিষয় নয়। এর ফলে পুরো ২৫ কোটি মানুষের এই দেশ ভুগেছে।
নওয়াজের ওপর এখন সবার দৃষ্টি। সাজা ও জরিমানা পাওয়া আজিজিয়া রেফারেন্স বা মামলায় তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। তার দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএলএন) তিনি দেশে ফেরার অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছে, নওয়াজই হবেন আগামী প্রধানমন্ত্রী। ওদিকে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বলেছেন, নওয়াজ শরীফকে ইলেকশন নয় ‘সিলেকশনের’ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বানানোর চেষ্টা চলছে। এমন হলে আগামী নির্বাচনের ফল তিনি ও জনগণ মেনে নেবে না। সাধারণ মানুষের মতো তিনিও হয়তো অনুমান করছেন যে, এস্টাবলিশমেন্টের সঙ্গে নওয়াজের কোনো বনিবনা হয়েছে। তা না হলে সাজাপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি দেশে ফিরেই বিশাল জনসভা করতে পারেন না। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মামলা খারিজ হয়ে যাচ্ছে। এতে সন্দেহ ঘনীভূত হয়েছে বিলাওয়াল ও রাজনৈতিক মহলে। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি