রাখাইনের রামরি দ্বীপে বিদ্রোহী অবস্থানে বিমান হামলা
বুধবার রাখাইন প্রদেশের রামরি দ্বীপে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অবস্থানে প্রচন্ড বোমা এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মিয়ানমার বিমানবাহিনী। পাশাপাশি যুদ্ধজাহাজ থেকেও হামলা চালানো হয়েছে।
এই দ্বীপে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ার জন্য চীনের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের। ৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী‘তাঙ ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি’ (টিএনএলএ), ‘আরাকান আর্মি’ (এএ) এবং ‘মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি’র (এমএনডিএএ) নয়া জোট ‘ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’ জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
চলতি সপ্তাহেই চীনের মধ্যস্থতায় সরকারের সঙ্গে তাদের শান্তি বৈঠকটি সফল হয়নি। এরপর সশস্ত্র বিদ্রোহী ৩ গোষ্ঠীর জোট ‘ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’ এর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।
এদিকে মিয়ানমারের উত্তরপূর্বের শান প্রদেশের ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক এলায়েন্স আমি চীনের সঙ্গে ব্যবসা ও যোগাযোগের পঞ্চম সীমান্ত ক্রসিং দখল করে নিয়েছে। ২৭ অক্টোবর থেকে সংঘাতের পর তারা এরআগে অনুরূপ ৪টি সীমান্ত ক্রসিং দখল করেছে।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের দুই-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ডজুড়ে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ চলছে এখন। বিদ্রোহী-জান্তার লড়াইয়ে গত কয়েক মাসে ৩৬০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এই সংঘাতে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৫ লাখেরও বেশি মানুষ।
সম্প্রতি দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্যে বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ে টিকতে না পেরে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছেন সামরিক বাহিনীর শত শত সদস্য। পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইনসহ অন্যান্য প্রদেশেও জান্তা সৈন্যরা বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস তাদের এক রিপোর্টে বলছে, ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স এবং আরও দু’টি সশস্ত্র গোষ্ঠী মিলে ‘ব্রিগেড ৬১১’ নামে একটি বাহিনী গঠন করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জনজাতিদের নিয়ে গঠিত হয়েছে ওই বাহিনী। তারাই এই মুহূর্তে রয়েছে লড়াইয়ের প্রথম সারিতে। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা
এনবিএস/ওডে/সি