জনসংখ্যা হ্রাসে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর সংকটে

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের সর্বনিম্ন জন্মহারের কারণে দক্ষিণ কোরিয়া শীঘ্রই তার সামরিক বাহিনীকে সম্পূর্ণ রাখতে পর্যাপ্ত সেনা খুঁজে পাবে না। একই সঙ্গে দেশটি ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাপূর্ণ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন হুমকি মোকাবেলা করছে। 

উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় অর্ধ মিলিয়ন সেনার সম্ভাব্য মোকাবেলা রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা ভাবনায়। কিন্তু দেশটির নারীরা জনপ্রতি সারাজীবনে মাত্র ০.৭৮ সন্তান জন্ম হার রাখায় এ বিষয়টি এই মুহুর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় শত্রু হতে পারে এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে সেনাবাহিনীর শক্তি হ্রাস করা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।

সাংমিউং ইউনিভার্সিটির জাতীয় নিরাপত্তা অধ্যাপক চোই বাইউং-ওক বলেন, আমাদের বর্তমান জন্মহারের সাথে, ভবিষ্যত পূর্বনির্ধারিত। সেনাবাহিনীর শক্তির আকার কমানো অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি সেনাবাহিনীর বর্তমান সেনা সংখ্যা বজায় রাখার জন্য, দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীকে বছরে ২ লাখ নতুন সেনা নিয়োগ দিতে হবে। 

গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ায় আড়াই লাখেরও কম শিশুর জন্ম হয়েছিল। প্রায় ৫০-৫০ পুরুষ-মহিলা বিভাজন ধরে নিলে, এর মানে হল ২০ বছরের মধ্যে, যখন সেই শিশুদের সামরিক বাহিনীতে যোগদানের বয়স হবে, তখন প্রয়োজনীয় ২ লাখের তুলনায় মাত্র সোয়া লাখ পুরুষ পাওয়া যাবে।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীতে নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয় না এবং স্বেচ্ছাসেবী নারীদের সংখ্যা দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীতে মাত্র ৩.৬%। 

পরিসংখ্যান অনুসারে, নবজাতকের বার্ষিক সংখ্যা আরও কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে বলা হয়েছে ২০২৫ সালে ২ লাখ ২০ হাজার এবং ২০৭২ সালে এ সংখ্যা আরো কমে ১ লাখ ৬০ হাজারে দাঁড়াবে। 
২০০০ এর দশকের গোড়ার দিকে, সামরিক বাহিনীকে আরও অভিজাত উন্নত করার জন্য সিউল স্বেচ্ছায় ২০০৬ সালে সক্রিয় সৈন্যের সংখ্যা ৬ লাখ ৭৪ হাজার থেকে কমিয়ে ২০২০ সালের মধ্যে ৫ লাখ করার সিদ্ধান্ত নেয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী সেই লক্ষ্যে পৌঁছেছে, ২০০২ থেকে ২০২২ পর্যন্ত দুই দশকে সৈন্য সংখ্যা ২৭.৬% হ্রাস করেছে দেশটি।

কিন্তু উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে সামরিক হুমকি আরো বেড়েছে। এই বছর উত্তর কোরিয়ার পঞ্চম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার পর, কিম সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে শত্রুরা যখন তার পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে উস্কানি দেয় তখন তার দেশ পারমাণবিক হামলা চালাতে ‘সঙ্কোচ করবে না’। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads