মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে জনসভার অনুমতি পেলেন না রাহুল গান্ধী

ঠিক ছিল, ১৪ জানুয়ারি ইম্ফল শহরের কেন্দ্রে প্যালেস চত্বরের সরকারি ময়দানে জনসভা করে দেশের পূর্ব থেকে পশ্চিম অভিমুখে রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’ শুরু হবে। কিন্তু মণিপুরের বিজেপি-শাসিত সরকার বৃহস্পতিবার সেই রাজ্যের ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’-র যুক্তি দিয়ে জনসভা আয়োজনের আর্জি খারিজ করে দিয়েছে। 

মণিপুর সরকার জানিয়েছে, প্যালেস চত্বরে শুধু পতাকা উত্তোলন করা যাবে। সেখানে সীমিত সংখ্যক লোক জড়ো হতে পারবেন। তাদের নাম আগেভাগে জেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে। এই বন্দোবস্তের কথা শুনে কংগ্রেস ইম্ফল থেকে কর্মসূচি সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে থৌবালে। পতাকা উত্তোলন ও যাত্রার সূচনা হবে সেখানেই।

মণিপুরে গত মে মাস থেকে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংসতা চলছে। তা থামাতে পারেনি কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকার। সেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ‘কাজে লাগিয়ে’ রাহুলের যাত্রার শুরুতে জনসভার অনুমতি না-দেওয়াকে কংগ্রেস ‘দুর্ভাগ্যজনক’ ও ‘গণতন্ত্রবিরোধী’ আখ্যা দিয়েছে। কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ইম্ফলের ওই ময়দানের পরিবর্তে থৌবালে খোংজম এলাকার এক বেসরকারি ময়দান থেকে ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা শুরু হবে। 

মণিপুর থেকে মুম্বাই পর্যন্ত রাহুলের যাত্রার জন্য আজ কংগ্রেস প্রচার পুস্তিকা প্রকাশ করে ‘ন্যায় যোদ্ধা’ নামে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দলীয় সমর্থকদের নাম লেখানোর ডাক দিয়েছে। কংগ্রেসের বক্তব্য, এক বছর আগে কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত ভারত জোড়ো যাত্রার পরে মণিপুর থেকে মুম্বাই পর্যন্ত এই ৬৭১৩ কিলোমিটার যাত্রার মূল দাবি হল, আর্থিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ন্যায়। 

কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল বলেন, ‘যখন পূর্ব থেকে পশ্চিম ভারতে যাত্রা শুরু হচ্ছে, তখন কী ভাবে মণিপুরকে এড়িয়ে যাওয়া যায়? সে ক্ষেত্রে আমরা দেশের মানুষকে কী বার্তা দেব?” কংগ্রেসের বক্তব্য, এক সপ্তাহ আগেই তারা মণিপুর সরকারের কাছে ইম্ফলে জনসভার অনুমতি চেয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কে মেঘচন্দ্র, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওক্রাম ইমোবি সিংহের নেতৃত্বে কংগ্রেস নেতারা মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিংহের সঙ্গে দেখা করেন। তখনই বীরেন জানিয়ে দেন, জনসভার অনুমতি দেওয়া হবে না। সূত্র: ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

এনবিএস/ওডে/সি

Walton Ads