‘পাকিস্তান দেখতে পারে ১৯৭১-এর পুনরাবৃত্তি’, হুঁশিয়ারি তালেবান মন্ত্রীর
মঙ্গলবার এই বলে পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিলেন আফিগানিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শের মহম্মদ স্তানিকজাই। আফগান শরণার্থীদের ফেরত পাঠানোর পাকিস্তান নীতির সমালোচনা করে তিনি ওই মন্তব্য করেছেন।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে পাশতুন দমনের। আশির দশকে আফগানিস্তানে তৎকালীন সোভিয়েত বাহিনীর আগ্রাসন এবং মুজাহিদ বাহিনীর সঙ্গে তাদের লড়াই শুরুর পর থেকে পাকিস্তানে পাশতুন জনগোষ্ঠীর শরণার্থীদের ভিড় শুরু হয়েছিল।
মূলত পাশতুন অধ্যুষিত খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশ এবং বেলুচিস্তানের উত্তরাংশে আশ্রয় নিয়েছিলেন তারা। ঘটনাচক্রে, ওই অঞ্চলগুলির অধিকার নিয়ে গত কয়েক দশক ধরেই পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মতবিরোধ রয়েছে।
২০২১ সালের আগস্টে কাবুলে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পরে সীমান্ত চিহ্নিতকরণ নিয়ে দু’দেশের বিরোধ শুরু হয়। সেই সঙ্গে পাকিস্তান সেনার সঙ্গে লড়াইয়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান (টিটিপি)-কে কাবুলের মদতের অভিযোগ ঘিরেও দু’তরফের মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে।
এই পরিস্থিতিতে গত অক্টোবর থেকে পাকিস্তান সেনা আফগান শরণার্থী বিতাড়ন শুরু করেছে, যা নিয়ে প্রকাশ্যে সরব হলেন তালেবান মন্ত্রী স্তানিকজাই। তাৎপর্যপূর্ণভাবে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সীমান্তের দুই পাশে বসবাসকারী পাশতুনেরা কখনোই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে পৃথককারী ডুরান্ড লাইন (ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সরকারের তৈরি সীমান্ত) মেনে নেননি।’ এজন্য পাকিস্তান ভূখণ্ডের উপর তালেবানের দাবি বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
ভারতের দেরাদূনের ‘ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি’ (আইএমএ)-র ১৯৮২-র ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন স্তানিকজাই। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র স্তানিকজাই সফলভাবে আইএমএ কোর্স শেষ করে কাবুল ফিরে গিয়ে সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে শামিল হয়ে ছিলেন তিনি।