সৌদি আরবে নারীদের জন্য তৈরি তথাকথিত ‘পুনর্বাসন কেন্দ্র’—আসলে একটি গোপন বন্দিশালা, যেখানে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। এই কেন্দ্রগুলো, যেগুলোকে সরকার “দার আল-রিয়ায়া” বা ‘সেবা কেন্দ্র’ হিসেবে বর্ণনা করে, বাস্তবে নারীদের নিয়ন্ত্রণ ও শাস্তির জন্য ব্যবহৃত হয়।
দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এসব কেন্দ্রে নারী বন্দিদের নিয়মিতভাবে বেত্রাঘাত, মানসিক নির্যাতন এবং বাধ্যতামূলক ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া হয়। বাহ্যিক জগতের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ থাকে না, এবং পরিবারের অনুমতি ছাড়া তারা মুক্ত হতে পারে না। অনেক নারী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এই নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে।
জানা গেছে, পরিবার বা পুরুষ অভিভাবকের ‘অবাধ্যতা’, প্রেমঘটিত সম্পর্ক, বা বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া—এই ধরনের কারণেই নারীদের এসব কেন্দ্রে পাঠানো হয়। আসল নামের পরিবর্তে বন্দিদের নম্বর দিয়ে ডাকা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাদের স্ট্রিপ-সার্চ, কুমারীত্ব পরীক্ষা ও ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়।
একজন ভুক্তভোগী বলেন, “আমি জানতাম সেখানে কী হয় নারীদের সঙ্গে, তাই আমাকে সেখানে পাঠানো হবে শুনেই আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম।”
যারা এই অবিচারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন, তাদেরও জেল বা নির্বাসনের শিকার হতে হয়েছে। অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই কেন্দ্রগুলো নারীর উপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার এবং এগুলো বাতিল হওয়া জরুরি।
যদিও সৌদি সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, নারীরা যেকোনো সময় কেন্দ্র ছেড়ে যেতে পারেন, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাষ্ট্রীয় ‘নারী ক্ষমতায়নের’ প্রচারের আড়ালে চলছে নারী নির্যাতনের এক নির্মম ইতিহাস।