ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে শুক্রবার (১৩ জুন) ভোরে বিস্তৃত হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এই সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’, যার মূল লক্ষ্য ছিল তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক ভাষণে বলেন, “ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়, তা আমাদের অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি। এই হুমকি দূর করতেই আমাদের অভিযান।” তিনি আরও জানান, ইরান ছয় বছরের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করেছিল, যার বেশিরভাগই ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে তৈরি হচ্ছিল।
নেতানিয়াহুর মতে, অপারেশনের প্রাথমিক পর্যায়ে ইরানের নাতানজ-সহ একাধিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই হুমকিগুলো আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে পারি না। এখনই সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার।”
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, এই হামলা ছিল কেবল প্রথম ধাপ। সামনের দিনগুলোতে আরও আক্রমণ চালানো হবে কি না, তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।
জাতিসংঘে ইসরায়েলের স্থায়ী প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন এক বিবৃতিতে বলেন, “এই অভিযান শুধু ইসরায়েলের নয়, বরং বিশ্ব নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য। কারণ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তা একটি বৃহত্তর সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তথ্যসূত্র: অ্যাক্সিওস।