ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। শুক্রবার ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান ২০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি দেশটির জন্য বড় হুমকি।

ক্ষয়ক্ষতি ও প্রতিরোধ
ইসরায়েলি সূত্রমতে, ইরানের হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ১২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করলেও কিছু জনবহুল এলাকায় আঘাত হেনেছে। তেল আবিব, রামাত গান ও হাইফায় হামলার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের লক্ষ্য কী?
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত ইসরায়েলের বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হাইফা বন্দর ও তেল শোধনাগারের মতো কৌশলগত স্থানগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। তবে, ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষেত্রেও হামলা চালিয়ে তাদের সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

ইরানের অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের কাছে এখনও শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়েছে। তাদের ধারণা, ইরান যদি বর্তমান গতিতে হামলা চালায়, তাহলে আরও কয়েকদিন এই লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ তাল ইনবার জানিয়েছেন, ইরান এবার নতুন ধরনের 'শাহেদ হাজ কাসেম' ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যা দ্রুত উৎক্ষেপণযোগ্য এবং আরও মারাত্মক।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিলেও ইরানকে সমর্থন জানাচ্ছে রাশিয়া ও চীন। সংঘাত আরও বাড়লে আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

ইসরায়েল ও ইরানের এই লড়াই কতদিন চলবে, তা এখনও অনিশ্চিত। তবে, উভয় পক্ষই যুদ্ধের প্রস্তুতি জোরদার করছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Walton Ads