ইরান পরমাণু অস্ত্র বিস্তার প্রতিরোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকেয়ি। তিনি জানান, ইরানি পার্লামেন্ট এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি আইনের খসড়া তৈরি করছে। খবর: আল জাজিরা ও বিবিসি।
বাকেয়ি অবশ্য জোর দিয়ে বলেন, “তেহরান গণবিধ্বংসী অস্ত্র নির্মাণের বিপক্ষে অবস্থানেই আছে।”
১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া এনপিটি চুক্তির আওতায় শুধু পাঁচটি স্বীকৃত পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স—পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারে। অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো শুধু শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি চালাতে পারে, যা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর তেহরান ধীরে ধীরে এনপিটি চুক্তির বাধ্যবাধকতা থেকে সরে আসতে শুরু করে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়ে।
এদিকে, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের অনুরোধে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) আজ এক জরুরি বৈঠকে বসেছে। এতে রাশিয়া, চীন এবং ভেনেজুয়েলা সমর্থন দিয়েছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে আনা প্রস্তাবের পক্ষে পর্যাপ্ত ভোট না পড়ার আশঙ্কায় সরাসরি নিন্দা প্রস্তাবের পরিবর্তে একটি সাধারণ বিবৃতির দিকে ঝুঁকছে তেহরান।
ইরান বলছে, এনপিটি কাঠামোর মধ্যে সামরিক হামলা কখনো গ্রহণযোগ্য নয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই আগ্রাসনের নিন্দা জানানো। তবে চলমান মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মধ্যে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক নিন্দা ঘোষণার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।