ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মহাকাশ ও বিমান শাখা ‘ট্রু প্রমিজ-৩’ অভিযানে ইসরাইলের দখলকৃত ভূখণ্ডে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ‘ইয়া আলী ইবনে আবি তালিব’ কোডনামে পরিচালিত এ অভিযানে ইরান সফলভাবে হাইফা, তেল আবিবসহ ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে আঘাত হানে।

ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছিল দীর্ঘপাল্লার ইমাদ, কাদর এবং উন্নত প্রযুক্তির খায়বার শেকান। এগুলো ইসরাইলের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’, ‘ডেভিড’স স্লিং’ এবং ‘প্যাট্রিয়ট’কে এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরাইলের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জ্বালানি ডিপো এবং বিমানঘাঁটির ওপর নিখুঁতভাবে আঘাত করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই অপারেশন শুধুই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নয়, বরং আঞ্চলিক প্রতিরোধ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ এক নিদর্শন। অভিযানে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শুধু প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত নয়, এর কৌশলগত উদ্দেশ্য ছিল ইসরাইলকে চরম বার্তা দেওয়া—ইরান যে কোনো সামরিক আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত।

ইসরাইলি মিডিয়ার দাবি অনুযায়ী, হামলায় বেশ কয়েকজন ইসরাইলি হতাহত হয়েছে এবং হাইফাসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানও নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রেখেছে। ইসরাইলের পাল্টা হামলার সময় ইরান অন্তত ৩টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ১০টি আক্রমণাত্মক ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

এই অভিযান ইরানের সামরিক সক্ষমতার পরিণত রূপ তুলে ধরেছে, যা ইসরাইলের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা কৌশলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের জটিল সংকটে এই ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযানের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে গভীর ও বিস্তৃত হতে পারে।

Walton Ads