যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিতর্কিত বিবৃতিতে ইরানের রাজধানী তেহরানের বাসিন্দাদের দ্রুত শহর ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই মন্তব্যের পরপরই তেহরানের আকাশে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা ইরান-ইসরাইল সংঘাতের পঞ্চম দিনে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে বলেন, "ইরান কখনই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না...তেহরানের বাসিন্দাদের অবিলম্বে শহর ছাড়ার পরামর্শ দিচ্ছি।" এই মন্তব্য আসে এমন সময়ে যখন জি-৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি কানাডায় অবস্থান করছিলেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট বিবেচনায় তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই ওয়াশিংটনে ফিরে যান।
কূটনৈতিক চাপের কৌশল?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে এই মন্তব্যের মাধ্যমে ইরানকে চাপে ফেলতে চাইছেন। কানাডায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দেন যে ইসরাইল ও ইরান শীঘ্রই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে পারে। "আমি ইরানকে ৬০ দিন সময় দিয়েছিলাম," বলেন ট্রাম্প, "৬১তম দিনে যা ঘটেছে তা সবাই দেখেছে।"
নিরাপত্তা জোরদার
ওয়াশিংটনে ফিরে ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকেন। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরাইলের সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে না। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেট হেগসিথ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন, যা তারা "প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মাঠপর্যায়ের অবস্থা
ইতিমধ্যে:
ইসরাইলি বিমান হামলায় তেহরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন ও পশ্চিম ইরানের দুটি মিসাইল ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে ইসরাইলের তেল আবিব ও জেরুসালেমে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।
চীনা দূতাবাস ইসরাইলে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের জর্ডান সীমান্ত দিয়ে দ্রুত দেশত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি টুইটারে লিখেছেন, "ওয়াশিংটন শুধুমাত্র একটি ফোনকল দিয়েই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।" তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে।
পরিস্থিতি মূল্যায়ন:
ট্রাম্পের এই বিবৃতি কৌশলগত চাপ তৈরি করলেও বাস্তবে তেহরান থেকে গণপলায়নের কোনো ঘটনা এখনো ঘটেনি। তবে সংঘাত যত দীর্ঘ হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ততই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই সংকট যদি শীঘ্রই নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল একটি বৃহত্তর যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।