ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি হামলাটিকে ‘অবিবেচনাপ্রসূত’ ও ‘ভয়াবহ পরিণতির পথপ্রসারক’ বলে উল্লেখ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ জুন) দোহার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। — খবর আল জাজিরার।
আল-আনসারি বলেন, “আমরা ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাব। কূটনৈতিক সমাধানই একমাত্র পথ।” তিনি আরও জানান, এই সংঘাত শুরু হয়েছে এমন এক সময়, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইতিবাচক কূটনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছিল। আলোচনায় যুক্ত ছিল মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশ।
তিনি বলেন, “কাতার এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় রয়েছে এবং আমরা বিশ্বাস করি—একটি শান্তিপূর্ণ চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রও আগ্রহী।”
এদিকে, একই দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং এই সংঘাতের ‘একটি স্থায়ী সমাপ্তি’ চান। এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারে না। আমরা একটি চুক্তির মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।”
পরে নিজের সোশ্যাল ট্রুথ অ্যাকাউন্টে ট্রাম্প লেখেন, “যদি ইরান আলোচনায় বসতে চায়, তারা জানে কীভাবে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। আলোচনার টেবিলে যেই প্রস্তাব আছে, তা গ্রহণ করাই তাদের জন্য উত্তম—এতে বহু প্রাণ রক্ষা হবে।”
উল্লেখ্য, ১২ জুন রাতে ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’-এর মাধ্যমে ইসরায়েল ইরানে আকস্মিক বিমান হামলা চালায়। তেহরানসহ বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও পরমাণু স্থাপনায় হামলার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষই শান্তি আলোচনায় এগিয়ে আসেনি।