ইসরায়েলি গোয়েন্দা নেটওয়ার্ককে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও কার্যকর গোয়েন্দা ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে গণ্য করা হয়। বিভিন্ন সময় বিদেশে টার্গেটেড অপারেশন চালিয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা তাদের দক্ষতার প্রমাণ রেখেছে। সম্প্রতি ইরানে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে লেবাননে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহর হত্যা - সব ক্ষেত্রেই ইসরায়েলি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের ভূমিকা রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

ইসরায়েলের গোয়েন্দা কাঠামো:

ইসরায়েলের গোয়েন্দা ব্যবস্থা মূলত তিনটি প্রধান সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত:
১. মোসাদ (বৈদেশিক গোয়েন্দা)
২. শিন বেট/শাবাক (অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা)
৩. আমান (সামরিক গোয়েন্দা)

আমানের বিশেষ ইউনিটসমূহ:

ইউনিট ৮২০০: সাইবার যুদ্ধ ও ইলেকট্রনিক গোয়েন্দা তৎপরতার জন্য দায়ী। ২০১০ সালে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় স্টাক্সনেট ভাইরাস হামলার পেছনে এই ইউনিটের ভূমিকা ছিল বলে ধারণা করা হয়।

ইউনিট ৯৯০০: স্যাটেলাইট ও ড্রোনের মাধ্যমে গোয়েন্দা ছবি সংগ্রহ করে।

ইউনিট ৫০৪: মানব গোয়েন্দা (HUMINT) সংগ্রহে বিশেষজ্ঞ।

ব্রাঞ্চ ৫৪: ইরান-বিরোধী বিশেষ অপারেশনের জন্য ২০২৩ সালে গঠিত নতুন ইউনিট।

গোপন অপারেশনের কৌশল:
ইসরায়েলি গোয়েন্দারা সাধারণত নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে কাজ করে:

লক্ষ্যবস্তুর দৈনন্দিন রুটিন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ

স্থানীয় সহযোগী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা

হাই-টেক প্রযুক্তির ব্যবহার

ডিসইনফরমেশন ছড়িয়ে শত্রুকে বিভ্রান্ত করা

সাম্প্রতিক সাফল্য:
২০২৪ সালে ইরানে পরমাণু বিজ্ঞানী হত্যা, দামেস্কে ইরানি কূটনৈতিক ভবনে হামলা এবং তেহরানে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ডে ইসরায়েলি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সক্ষমতা শুধু প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং আক্রমণাত্মক অপারেশনেও সমানভাবে কার্যকর। তাদের এই নেটওয়ার্ক ক্রমাগত প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং অভিযোজনের মাধ্যমে নিজেদের আধুনিকায়ন করে চলেছে, যা ইসরায়েলকে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে একটি অনন্য সুবিধা দিয়েছে।

Walton Ads