অবশেষে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে এক টেলিফোনালাপে উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) অনুষ্ঠিত এই আলাপে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, “ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন এবং ন্যায়নীতি উপেক্ষা করে একের পর এক অপরাধ করে চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে এই অঞ্চলে কখনো টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি ঘরোয়া ঐক্য, আন্তর্জাতিক সমঝোতা এবং কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনায় অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়েহকে তেহরানে হত্যার মাধ্যমে ইসরায়েল ইরানের শান্তিপ্রচেষ্টা নস্যাৎ করার চেষ্টা চালিয়েছে।
পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, “ইসরায়েল যখন হামলা শুরু করে, তখন ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ছিল। এই হামলা সরাসরি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর আঘাত।” তিনি ইসরায়েলের এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানান।
জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ইরান সরকার ও জনগণের পাশে থাকার বার্তা দেন। তিনি বলেন, “আমিরাত মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে এবং আঞ্চলিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে বহুমাত্রিক আলোচনা শুরু করেছে।”
এই আলাপকে অনেকেই দেখছেন ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের পথে এক ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে। দুই দেশের এই পারস্পরিক যোগাযোগ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা হ্রাস এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ সুগম করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।