ইরানে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান, তবে এতটুকু যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি ও প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা মাওলানা ফজলুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে এক আবেগঘন ভাষণে তিনি বলেন, “পাকিস্তানের উচিত শুধু নিন্দা নয়, বরং সাহসিকতার সঙ্গে ইরানের পাশে দাঁড়ানো।”

তিনি বলেন, “যখন ইরান নিজেদের রক্ষায় জবাব দেয়, তখন বিশ্বশক্তিগুলো তাকে প্রতিরোধে বাঁধা দেয়। অথচ ইসরায়েলকে গাজার জনগণের ওপর নির্বিচারে আগ্রাসন চালাতে সম্পূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়। এ বৈষম্য স্পষ্টভাবে অন্যায়।”

মাওলানা ফজলুর রহমান আরও বলেন, “আমরা গাজা, ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইরানের সংগ্রামে একাত্ম। বিশ্বে ইহুদি ও হিন্দু শক্তি একজোট হয়ে মুসলিম অঞ্চলগুলোকে ধ্বংস করতে চায়। এটা তাদের সুপরিকল্পিত আগ্রাসী অ্যাজেন্ডা।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইসরায়েল শুধু গাজাই নয়, সম্প্রতি সিরিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ধ্বংস করেছে। গাজায় তাদের অব্যাহত বোমাবর্ষণে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার ফিলিস্তিনি। দুই দিনের মধ্যেই প্রাণ গেছে ১৫০০-র বেশি মানুষের। অথচ ওআইসি নীরব, কার্যত অকার্যকর প্রতীকী সংগঠনে পরিণত হয়েছে।”

আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। “বিশ্ব নীরব। ফিলিস্তিনিদের রক্তের কোনো দাম নেই এই বিশ্ব ব্যবস্থায়,” বলেন ফজলুর রহমান।

তিনি পাকিস্তান সরকারকে আহ্বান জানান, মুসলিম উম্মাহর স্বার্থে এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিতে। বিশেষ করে, বর্তমান সংকটে ইরানের পাশে শক্তভাবে দাঁড়ানো সময়ের দাবি।

Walton Ads