ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিরোধে প্রস্তুত ইরান। দেশটি খুব শিগগিরই আধুনিক প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। এরই মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছে ইরানি রাজপথ। গত ২০ জুন রাজধানী তেহরানে আয়োজিত সমাবেশে বিক্ষুব্ধ জনতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানায়।
ইসরায়েল দাবি করে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে—এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই দেশটির বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে চালায় ব্যাপক বিমান হামলা। জবাবে ১৩ জুন থেকে শুরু হওয়া ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত ২৫ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে তেল আবিব।
অন্যদিকে ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় অন্তত ২২৪ জন ইরানি প্রাণ হারিয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন সামরিক কমান্ডার, পরমাণু বিজ্ঞানী ও সাধারণ নাগরিক।
শুক্রবার ইরানের সর্বশেষ হামলায় ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে বহু মানুষ আহত হয়। ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থা এমডিএ জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কারমিয়েল এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ৫১ বছর বয়সী এক নারী।
রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগের সিনিয়র সাংবাদিক গাজী আবদুর রশীদ তেহরান থেকে কালের কণ্ঠকে বলেন, “তেহরান এখন একেবারে মৃত্যুপুরি। দোকানপাট, বাজারঘাট সব বন্ধ। মানুষ শহর ছেড়ে পালাচ্ছে। রাস্তাঘাট ফাঁকা, চলাচল করছে শুধু সাবওয়ে।”
তিনি বলেন, “যদিও অনেক ইরানি বলছেন, ‘আমরা তেহরান ছেড়ে যাব না।’ যুদ্ধকে তারা ভয় পায় না। বরং ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভে এখনো অংশ নিচ্ছে।”
সবশেষে তিনি জানান, ইরান ঘোষণা দিয়েছে, তারা খুব শিগগিরই আধুনিক প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার শুরু করবে। পরিস্থিতি প্রতিদিনই আরও জটিল হয়ে উঠছে।