যুদ্ধপীড়িত অঞ্চলে পরিণত হওয়া ইসরায়েলে নাগরিক নিরাপত্তা এখন অগ্রাধিকার। গাজা ও লেবানন সীমান্তের নিকটবর্তী অঞ্চলগুলোতে হামলার আশঙ্কা এতটাই তীব্র যে প্রতিটি বসতঘরেই এখন রয়েছে নিরাপত্তা ঘর—‘মামাদ’। এটি হলো রকেট ও বিস্ফোরণ প্রতিরোধী কংক্রিটের ঘর, যা ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর গৃহনির্মাণে বাধ্যতামূলক করা হয়।
‘মামাদ’ ছাড়াও সারা দেশে ছড়িয়ে রয়েছে হাজারো সরকারি শেল্টার, যা সাধারণ মানুষকে দ্রুত আশ্রয়ের সুযোগ দেয়। স্কুল, হাসপাতাল, অফিস, এমনকি উপাসনালয়েও রয়েছে নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা। প্রতিটি অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেল্টারে পৌঁছানো বাধ্যতামূলক—যেমন গাজার পাশে ১৫ সেকেন্ডে, আর তেলআবিব বা জেরুজালেমে ৩০–৯০ সেকেন্ডের মধ্যে।
‘হোম ফ্রন্ট কমান্ড’ নামে সামরিক শাখা নিয়মিত জনগণকে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে—সংকেত পেলে কীভাবে দ্রুত ও নিরাপদে আশ্রয় নিতে হবে।
তবে এ নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও আছে সীমাবদ্ধতা। আরব-ইসরায়েলি শহরগুলোতে অনেক ভবনে ‘মামাদ’ নেই। সম্প্রতি হাইফার কাছাকাছি তামরা শহরে সাইরেন বেজে ওঠার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা আশ্রয় নিয়েছিলেন একটি দুর্বল অস্থায়ী কেন্দ্রে, যা একটি বোমায় ধ্বংস হয়ে যায়—নিহত হন একই পরিবারের চার নারী।
২০২৪ সালের ‘ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট’ জানায়, আরব বসতিগুলোর ৪৬ শতাংশ মানুষ এমন ভবনে থাকেন, যেখানে কোনো নিরাপদ শেল্টার নেই। এ হিসেবে দেশটির মোট ২৬ শতাংশ নাগরিকই রয়েছেন অনিরাপদে।
তবু ‘আইরন ডোম’ ও ‘মামাদ’ মিলিয়ে ইসরায়েল নিজ নাগরিকদের সুরক্ষায় গড়েছে অন্যতম কার্যকর প্রতিরক্ষা অবকাঠামো, যা বর্তমানে বিশ্বের মধ্যে অন্যতম উন্নত বলে বিবেচিত।