ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) একজন শীর্ষ সামরিক সমন্বয়কারী নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি সাইদ ইজাদি ছিলেন কুদস ফোর্সের ফিলিস্তিন শাখার দায়িত্বে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তিনি গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পরিকল্পনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন, যেখানে ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়।

শনিবার ভোরে তেহরানের দক্ষিণে কোম শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এই হামলা চালানো হয়। আইডিএফ প্রধান ইয়াল জমির একে "অসাধারণ গোয়েন্দা সাফল্য" বলে অভিহিত করেছেন। ইজাদি হামাসকে অস্ত্র ও অর্থায়ন সরবরাহসহ সামরিক সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এদিকে, একই দিনে পশ্চিম ইরানে ড্রোন হামলায় কুদস ফোর্সের আরেক কমান্ডার বেহনাম শাহরিয়ারিকেও হত্যা করা হয়েছে। তিনি গাজায় হামাস ও লেবাননে হিজবুল্লাহকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন বলে আইডিএফ জানিয়েছে।

ইরান এখনও এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে গত এপ্রিলে সিরিয়ার দামেস্কে ইসরায়েলি হামলা থেকে ইজাদি অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছিলেন।

এই ঘটনার মধ্যেই ইসরায়েল-ইরান সংঘাত নবম দিনে প্রবেশ করেছে। শনিবার ইসরায়েল ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে ইরান দাবি করেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা ইরানের সামরিক স্থাপনা ও ড্রোন লক্ষ্য করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা "অত্যন্ত বিপজ্জনক" হতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েলি হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরান পারমাণবিক আলোচনায় ফিরবে না।

এদিকে, ইরানি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুন থেকে সংঘাতে ইরানে কমপক্ষে ৪৩০ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা ২৫ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Walton Ads