ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলাকে "কূটনীতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা" হিসেবে অভিহিত করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমরা আলোচনার টেবিলেই বসেছিলাম, অথচ যুক্তরাষ্ট্রই হামলা চালিয়ে সমস্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ধ্বংস করেছে।"
আরাঘচি জানান, ইরান সম্প্রতি জেনেভায় ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও আলোচনা চলছিল। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই মার্কিন হামলা কূটনীতির সব সম্ভাবনা নষ্ট করে দিয়েছে। "এখন প্রশ্ন হওয়া উচিত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, ইরানের বিরুদ্ধে নয়," যোগ করেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী মনোভাব রুখে দাঁড়ানো এখন সবার দায়িত্ব। যদি বিশ্ব এটিকে থামাতে না পারে, তাহলে আন্তর্জাতিক আইনের কোনো মূল্য থাকবে না।"
তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে বলেন, "মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রই আগের চুক্তি ভঙ্গ করেছে এবং এখন আলোচনার পথ বন্ধ করেছে।"
আরাঘচি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "ইরানি জনগণ যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। আমরা আমাদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সম্পূর্ণ সক্ষম।"
এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংঘাত এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।