ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল আবারও গাজার দিকে মনোনিবেশ করতে চলেছে। ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন, হামাসের শাসন ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া এবং জিম্মিদের মুক্ত করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। তবে গাজায় ফিরে আসার এই সিদ্ধান্ত নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময়েও গাজায় ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত ছিল, যাতে ৮৭০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৩ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের অর্ধেকই শিশু। এই গবেষণা প্রতিবেদনটি হার্ভার্ড ডেটাভার্সে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি তৈরি করেছেন ইসরায়েলি অধ্যাপক ইয়াকভ গার্ব।

গবেষণায় দেখা গেছে, গাজার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ ৫০ হাজার, যেখানে যুদ্ধ শুরুর আগে জনসংখ্যা ছিল ২২ লাখ ২৭ হাজার। এই হিসাবে ৩ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ এখনো অজানা অবস্থায় রয়েছেন। যদিও কিছু মানুষ বাস্তুচ্যুত বা নিখোঁজ হতে পারেন, কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর একটি বড় অংশ সম্ভবত নিহত হয়েছেন। বর্তমান সরকারি তথ্য অনুযায়ী গাজায় নিহতের সংখ্যা ৬১ হাজার হলেও, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।

গবেষণায় মার্কিন-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর ভূমিকাও সমালোচিত হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই সহায়তা কেন্দ্রগুলো ইসরায়েলি সামরিক কৌশল দ্বারা প্রভাবিত এবং সেখানে মানবিক সহায়তার চেয়ে নিয়ন্ত্রণই বেশি লক্ষণীয়। বেশিরভাগ কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় এবং নিরাপদ প্রবেশপথের অভাবে ফিলিস্তিনিদের সাহায্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সহায়তা কেন্দ্রগুলোর নকশা এমনভাবে করা হয়েছে, যা নিয়মিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এতে বেসামরিক নাগরিকদের বারবার বিপজ্জনক এলাকায় যেতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা তাদের生命安全কে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের শেষ থেকে সহায়তা নিতে গিয়ে কমপক্ষে ৪৫০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং সাড়ে তিন হাজার আহত হয়েছেন।

এই গবেষণা গাজায় চলমান সংকটের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন হামলা গাজার বেসামরিক জনগণের জন্য আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এখনই হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হচ্ছে, যাতে গাজায় মানবিক বিপর্যয় রোধ করা যায়।

Walton Ads