নিউইয়র্ক সিটি মেয়র পদে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে বিজয়ের পর থেকে ইসলামোফোবিক ও বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হচ্ছেন জোহরান মামদানি। এ ঘটনায় চার মুসলিম ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য—আন্দ্রে কারসন, রাশিদা তালিব, ইলহান ওমর এবং লতিফাহ সাইমন—এক যৌথ বিবৃতিতে এই ঘৃণ্য প্রচারণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, “জোহরানের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের কিছু আইনপ্রণেতার মুসলিমবিরোধী ও বর্ণবাদী ভাষ্য নীরবভাবে মেনে নেওয়া যায় না। এসব ইসলামোফোবিক ট্রোপ এখন এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে প্রতিরোধ জরুরি হয়ে উঠেছে।”
মামদানি, যিনি নিউইয়র্কের প্রথম সম্ভাব্য মুসলিম মেয়র হতে যাচ্ছেন, প্রাথমিক বিজয়ের পর থেকেই কট্টরপন্থী রিপাবলিকানদের লক্ষ্য হয়েছেন। প্রতিনিধি ন্যান্সি মেস তাকে ৯/১১ সন্ত্রাসের সঙ্গে তুলনা করেন এবং অ্যান্ডি ওগলস তার নির্বাসন দাবি করেন। এমনকি ডেমোক্র্যাট সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড মামদানির ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানান, যা বামপন্থী মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সমালোচকরা মামদানির “ইন্তিফাদাকে বিশ্বায়ন করুন” বক্তব্যকে ইহুদিবিদ্বেষী আখ্যা দিলেও, তিনি বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছেন। মুসলিম আইনপ্রণেতারা ডেমোক্র্যাটিক নেতৃত্বের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন দলীয়ভাবে এ ধরনের আক্রমণের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়া হয়।
শুক্রবার হাউস স্পিকার মাইক জনসন এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিস এক ভিডিওবার্তায় অ্যান্ডি ওগলসকে “সম্পূর্ণ লজ্জাজনক” বলে আখ্যায়িত করেন এবং এমন ঘৃণাপূর্ণ রাজনীতির বিরুদ্ধে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
এই ঘটনায় মার্কিন রাজনীতিতে ইসলামোফোবিয়া ও বর্ণবাদের প্রসার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।