পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে একটি সামরিক কনভয়ের ওপর চালানো আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৩ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৯ জন, যাদের মধ্যে রয়েছেন বেসামরিক নাগরিক ও শিশুরাও। আহতদের মধ্যে চার সেনার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি কনভয়ের সঙ্গে ধাক্কা দিলে প্রচণ্ড বিস্ফোরণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে আশপাশের দুটি বাড়ির ছাদ ধসে পড়ে অন্তত ছয়জন শিশু আহত হয়েছে।
এই হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধঘোষিত পাকিস্তানি তালেবান সংগঠনের হাফিজ গুল বাহাদুর গোষ্ঠী। উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সহিংসতা বেড়েছে।
পাকিস্তান সরকার অভিযোগ করেছে, আফগানিস্তান তাদের সীমান্ত ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলার অনুমতি দিচ্ছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে আফগান তালেবান সরকার।
এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত কেবল খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলায় প্রায় ২৯০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
এই হামলা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা দমন করতে না পারলে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
সরকার হামলার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ছিল চলতি বছরের অন্যতম ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা।