গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান অবরোধ এবং সামরিক হামলার ফলে খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার ঘাটতিতে কমপক্ষে ৬৬ শিশু মৃত্যুবরণ করেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। ইউনিসেফ সতর্ক করেছে, সেখানে শিশুর অপুষ্টির হার "উদ্বেগজনক হারে" বাড়ছে, যা আরও একটি মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে খাদ্য, দুধ এবং চিকিৎসা সহায়তার প্রবেশ ঠেকিয়ে শিশুদের অনাহারে ঠেলে দিচ্ছে। এই কর্মকাণ্ডকে তারা ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং আন্তর্জাতিক সমাজের নিরবতাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছে।
ইউনিসেফ জানায়, মে মাসেই ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী অন্তত ৫,১১৯ শিশু তীব্র অপুষ্টির কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যা এপ্রিলের তুলনায় ৫০% বেশি। বছরের শুরু থেকে মে পর্যন্ত গড়ে প্রতিদিন ১১২ শিশু অপুষ্টিতে চিকিৎসা নিচ্ছে। সংস্থাটি জানায়, “এই প্রতিটি মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য। খাদ্য ও চিকিৎসা ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”
ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজা শহরের তুফাহ এলাকায় আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৯ জন শিশু। আরও কয়েকটি বিমান হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬০ জনে।
এছাড়া, মার্কিন-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশনের (GHF) সাহায্যকেন্দ্রের আশপাশে হামলায় নিহতের সংখ্যা ৫৫০ ছাড়িয়েছে। আল জাজিরার রিপোর্ট অনুযায়ী, নিরস্ত্র মানুষদের ওপর ‘ইচ্ছাকৃতভাবে গুলি’ চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজার পরিস্থিতি মানবতা ও আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। তারা অবিলম্বে সকল সীমান্ত খুলে দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন, যাতে শিশুরা আর না খেয়ে না মরে।