সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে যে ২১শ শতাব্দীর যুদ্ধক্ষেত্র এখন বন্দুক-ট্যাঙ্কের ময়দান থেকে সরে গেছে ড্রোন, সাইবার আক্রমণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এই নতুন ধরনের "হাইব্রিড ওয়ারফেয়ার" কে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাম্প্রতিক অপারেশন এই পরিবর্তনের স্পষ্ট উদাহরণ। গত ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সফল ড্রোন হামলা চালায় তারা। মোসাদ ইরানের ভেতরে গোপনে ড্রোন ও বিস্ফোরক পাচার করে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমৃদ্ধ কোয়াডকপ্টার ব্যবহার করে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে।

একইভাবে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি সাধন করেছে। গত ১ জুন ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে পাঁচটি বিমান ঘাঁটিতে সমন্বিত ড্রোন হামলা চালায়, যাতে রাশিয়ার ৪০টির বেশি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

সাইবার যুদ্ধও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ। লেবাননে হিজবুল্লাহর সদস্যদের মধ্যে পেজার বিস্ফোরণের ঘটনায় দেখা গেছে কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে শত্রুপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু বানানো যায়। মোসাদ কর্তৃক পরিবর্তিত পেজার ডিভাইসগুলোতে দূর থেকে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল, যা সাধারণ স্ক্যানার দিয়ে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধে ড্রোন, সাইবার আক্রমণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা আরও বাড়বে। এই প্রযুক্তিগুলো কম খরচে বড় ধরনের ক্ষতি সাধনে সক্ষম, যা প্রচলিত যুদ্ধের ধারণাকে আমূল বদলে দিচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন নিজেদের সাইবার ও ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, কারণ আধুনিক যুদ্ধের ময়দান এখন আর শুধু মাটিতে নয়—বরং ডিজিটাল জগত ও আকাশেও বিস্তৃত।

Walton Ads