ইসরায়েলের কাছ থেকে পাওয়া স্পর্শকাতর নথির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-কে আর পরমাণু স্থাপনাগুলোতে প্রবেশ বা নজরদারির অনুমতি দেবে না ইরান। শনিবার এই ঘোষণা দেন ইরানি সংসদের ভাইস স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই।
তেহরানে আয়োজিত শহীদ আয়াতুল্লাহ বেহেস্তি ও অন্যান্য বিচার বিভাগের শহীদদের স্মরণে এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “ইসরায়েলি সরকারের মাধ্যমে আমাদের পরমাণু স্থাপনাগুলোর সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস হওয়ায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি—আইএইএকে আর কোনো প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে না এবং তাদের ক্যামেরা স্থাপনও নিষিদ্ধ থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “গত ১২ দিনের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যে আগ্রাসন হয়েছে, তা শুধু সামরিক নয়—এটি মার্কিন নেতৃত্বাধীন ৪৭ বছরের পুরনো শত্রুতার ধারাবাহিকতা। এই শত্রুতার পেছনে মূল কারণ আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র বা পরমাণু কর্মসূচি নয়, বরং এটি ইরানি জাতির স্বাধীন অবস্থান।”
হাজি বাবাই জোর দিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ৯ কোটির শক্তিশালী জাতিকে ভয় পায়—একটি জাতি যার রয়েছে ৭ হাজার বছরের প্রাচীন ও গৌরবময় ইতিহাস, যারা কখনো আমেরিকার আধিপত্য মেনে নেবে না।”
তিনি ইরানের জনগণ ও সামরিক বাহিনীর প্রতিরোধ মনোভাবের প্রশংসা করে বলেন, “শত্রু যতই শক্তিশালী হোক, ইরানি জনগণের ঐক্য ও প্রতিক্রিয়া আরও দৃঢ় হয়ে উঠে।”
তিনি বলেন, “ঠিক যেমন ১৯৮১ সালে শত্রুরা আমাদের নেতৃত্বকে হত্যার মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা আনতে চেয়েছিল, আজও তারা একই কৌশলে জাতিগত উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে, ধরে নিচ্ছে ৭০ শতাংশ ইরানি তাদের পক্ষে। এটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিমূলক।”
এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।