যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশে ইরান এবং পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে রয়েছে দৃষ্টিভঙ্গির বড় পার্থক্য। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা তথ্য গোপনে ব্যস্ত থাকে, সেখানে ইরান শহীদদের সম্মান জানাতে গর্ববোধ করে। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় নিহতদের স্মরণে তেহরানে আয়োজিত বিশাল শোকর‌্যালি সেই উদাহরণই আরও একবার তুলে ধরেছে। তবে এবারের র‌্যালির সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় ছিল—ইসরায়েলি গণমাধ্যমের ‘মৃত’ দাবি করা দুই শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তার জীবিত উপস্থিতি।

তেহরানের ইনকিলাব স্কয়ার থেকে আজাদী স্কয়ার পর্যন্ত আয়োজিত এই শোকর‌্যালিতে লাখো মানুষ অংশ নেয়। এতে ৬০ জন শহীদ—পরমাণু বিজ্ঞানী, সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিকদের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান অংশগ্রহণকারীরা।

এই জনসমুদ্রে উপস্থিত ছিলেন সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ শীর্ষ রাষ্ট্রীয় নেতারা। তবে জনতার চাঞ্চল্যের কেন্দ্রে ছিলেন দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি—ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কায়ানি এবং সর্বোচ্চ নেতার নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী শামখানি। ইসরায়েলি গণমাধ্যম তাদের আগেই নিহত ঘোষণা করেছিল। অথচ তেহরানের র‌্যালিতে এই দুই নেতাকে হাঁটতে দেখে উপস্থিত জনতা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে।

আইআরজিসি সূত্র জানায়, আলী শামখানি ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন এবং র‌্যালিতে তাঁকে বেশ দুর্বল দেখাচ্ছিল। অন্যদিকে, ইসমাইল কায়ানি ছিলেন দৃঢ় ও আত্মবিশ্বাসী।

এই দৃশ্য ইরানের জন্য ছিল এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক বিজয়। শোকের মুহূর্তে এই জীবিত প্রত্যাবর্তন যেমন ইসরায়েলের দাবি ভুল প্রমাণ করেছে, তেমনি ইরানি জনগণের মনোবলে নতুন করে উৎসাহ জুগিয়েছে। ইরান পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে—তাদের শিকড় এতটাই গভীরে, যাকে সহজে উপড়ে ফেলা যাবে না।

Walton Ads