ইসরায়েলের সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকাতে প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ডে তাদের সামরিক তৎপরতার উপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে ইরান। তেহরান আশঙ্কা করছে, ইসরায়েল আবারও তৃতীয় পক্ষের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সোমবার (৩০ জুন) সাপ্তাহিক এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে মন্তব্য করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানয়ানি। তিনি বলেন, “ইসরায়েলের গতিবিধি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেশী দেশগুলোকে আমরা গোয়েন্দা তথ্য, সংবাদ প্রতিবেদন ও সম্ভাব্য জল্পনার ব্যাপারে অবহিত করেছি।”
কানয়ানি জানান, এখন পর্যন্ত সব প্রতিবেশী দেশ ইরানকে আশ্বস্ত করেছে যে, তারা ইসরায়েলকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের কোনো অনুমতি দেবে না। এসব দেশ আন্তর্জাতিক আইন ও সুপ্রতিবেশী সম্পর্কের নীতিমালার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় কোনও রাষ্ট্র তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে তার মাটি ব্যবহার করতে দিতে পারে না। বিষয়টি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত।”
তেহরান দাবি করেছে, ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিবেশী দেশ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, তারা কখনও ইসরায়েলকে এমন সুযোগ দেবে না।
ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ইসরায়েলের এই কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে কড়া নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
মুখপাত্র কানয়ানি বলেন, “আমরা এই ধরনের খবর, বিশেষ করে সীমান্তবর্তী দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহারের সম্ভাবনা, গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছি। এমনটি হলে তা শুধু ইরানের বিরুদ্ধে নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।”
এই পরিস্থিতিতে ইরান কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার করেছে বলে আভাস মিলেছে।